আড়াইহাজারে ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, কালাপাহাড়িয়ার কদমীরচর এলাকার আবুল কাশেমের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে থানার লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। আবুল কাশেম আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের বাবা।
এ বিষয়ে কথা বলতে মোবারক হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপ ও মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
অভিযান শেষে বিকেলে উপজেলার খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চবিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের ৪৫ এমএলআরএসের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ কমানো এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৪০ জন সেনা ও ১০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ার চর এলাকার প্রয়াত হযরত আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪০), শামসুল হক ব্যাপারীর ছেলে আবদুল মতিন (৪৫), শুকুর আলীর ছেলে রিন্টু মিয়া (৫১), এরশাদের ছেলে মো. জাকির (৩০) ও কানাই মিয়ার ছেলে মো. জনি (১৯)।
যোবায়ের আলম জানান, অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ১০টি গুলি এবং পাঁচটি শটগানের গুলি আছে। এ ছাড়া অভিযানে আটটি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র, চায়নিজ কুড়াল, ইলেকট্রিক শটগান, মাদক, ১০ লাখ টাকা ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কালাপাহাড়িয়া এলাকাটি চারপাশ থেকে মেঘনা নদীবেষ্টিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন একটি সংবেদনশীল এবং দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এ এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও থানা থেকে লুট করা অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযান শুরু হয় এবং যৌথ বাহিনীর ১৫০ জন সদস্য এলাকার বহির্গমন পথ, নদীপথ ও বসতবাড়ি এলাকায় পৃথকভাবে ঘিরে রাখেন। পরে সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি, গোপন আস্তানা শনাক্তকরণ ও এলাকাভিত্তিক টহল জোরদার করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।’
অভিযানের ফলে অপরাধমূলক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে উল্লেখ করে যোবায়ের আলম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় স্থিতিশীলতা রক্ষার ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’