ফকিরহাটের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনোয়ার হোসেনের গাড়ি ঘিরে এলাকাবাসীর ভিড়। বুধবার দুপুরে ফকিরহাটের পাইকপাড়া এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ইউএনও মো. মনোয়ার হোসেন তাঁকে শুধু থাপ্পড়ই মারেননি। জোর করে গাড়িতে তুলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে গালিগালাজ করে নামিয়ে দেন।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাঁঠালতলা এলাকায় খুলনা-মাওয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মিজানুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও মনোয়ার হোসেন।

মিজানুর রহমান উপজেলা পরিষদের দুবারের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা মিজানুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

মিজানুর রহমান বলেন, কাঁঠালতলা এলাকায় তাঁর গরুর খামার আছে। তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন। রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন ইউএনওর ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাড়িটি পেছনের দিকে এসে তাঁর মোটরসাইকেলে লাগিয়ে দেয়। এরপর ইউএনওর গাড়িচালক গাড়ি থেকে নেমে বলেন, ‘আপনি এখানে দাঁড়ায় রইছেন, আমার গাড়ির ক্ষতি হয়ে গেছে।’

মিজানুর রহমান দাবি করেন, গাড়িচালকের সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে ইউএনও গাড়ির গ্লাস নামিয়ে ডাক দেন। সালাম দিলে তিনি হেলমেট কোথায় জানতে চেয়ে গাড়িতে উঠতে বলেন। তিনি তখন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে গাড়িতে না ওঠানোর অনুরোধ করেন এবং গাড়ির ক্ষতি হলে জরিমানা দিতেও সম্মত হন। কিন্তু তিনি কোনো কথা না শুনে তাঁকে ধমক দেন এবং থাপ্পড় মারেন। পরে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির পেছনে উঠিয়ে গালিগালাজ করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাইকপাড়ায় তাঁর (ইউএনও) একটি সভা ছিল। সেখানে তাঁকে গাড়ির ভেতর আটকে রাখেন। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন পাইকপাড়ায় গেলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও মো. মনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মূলত কাঁঠালতলা মোড়টি ঝুঁকিপূর্ণ। ওই রাস্তা দিয়ে তিনি যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে রাস্তায় উঠছিলেন মিজানুর। তখন তাঁর গাড়িতে ধাক্কা লেগে উনি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রথম দিকে কথা না শোনার ভান করেন। তখন কথা বলার জন্য তাঁকে গাড়িতে উঠতে বলেন। পাইকপাড়া বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযোগ করেন, তিনি (ইউএনও) নাকি তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন। এরপরও ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনি হয়তো ভুল বুঝেছেন।’

কাঁঠালতলা এলাকার একটি সিসি ক্যামেরায় মিজানুর রহমানকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেছে দেখা গেছে, বেলা ১১টা ৩২ মিনিটের দিকে মহাসড়ক ধরে ফকিরহাটের দিক দিয়ে ইউএনওর গাড়িটি ফলতিতার দিকে যাচ্ছিল। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে গাড়িটি উল্টোভাবে আবার সেখানে ফিরে আসে। মিজানুর তখন একটি মোটরসাইকেলে ইউএনওর গাড়ি অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে গাড়ি থেকে চালক নেমে আসেন এবং তাঁদের মধ্যে কিছু কথা হয়। একপর্যায়ে ইউএনও গাড়ির পেছন থেকে আনসারের পোশাক পরা এক ব্যক্তি মিজানুরকে গাড়িতে তুলে নেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে গাড়িচালক নেমে মিজানুর রহমানকে ধমকান। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে মিজানুরকে থাপ্পড় দেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খান মোহাম্মাদ আরিফুল হক বলেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে মারধর করা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। একজন ইউএনওর কাছ থেকে এমন আচরণ খুবই অপ্রত্যাশিত।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।