আয়োজকেরা জানিয়েছেন, করোনা–পরবর্তী সময়ে অনেকের মধ্যে নানা রকম বিষণ্নতা তৈরি হয়েছে। অনেকের মধ্যে স্থবিরতা এসেছে। এই অবসাদ, স্থবিরতাকে ভেঙে আবার সবাইকে চাঙা করে তোলাই এই ম্যারাথনের উদ্দেশ্য। এই জেলার সৌন্দর্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও ম্যারাথনের অন্যতম একটা দিক। তবে এর সঙ্গে এবার যুক্ত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে। সেই লক্ষ্যে এবার হাফ ম্যারাথনে মৌলভীবাজার জেলার ম্যাপের ভেতর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধের ছবি–সংবলিত টি-শার্ট ও মেডেল তৈরি করা হয়েছে। এই স্মৃতিসৌধটি রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে। এ ছাড়া ম্যারাথন উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র।

আয়োজক ও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়েছিল। ৭ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়েছে। নিবন্ধন ফি ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা। ১৮ নভেম্বর সকাল সোয়া ছয়টায় শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কের বেঙ্গল কনভেনশন হল থেকে এই দৌড় শুরু হবে। দুই রকম দূরত্বে এই দৌড় হবে। এর একটি ১০ কিলোমিটার দূরত্বের। এই দূরত্বের অংশগ্রহণকারীরা শহরতলির কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা বাজারের দক্ষিণ প্রান্ত ছুঁয়ে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে ফিরবেন।

অপরটির দূরত্ব হবে ২১ দশমিক ১ কিলোমিটারের। এই দূরত্বের অংশগ্রহণকারীরা প্রেমনগর চা-বাগান থেকে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে ফিরে আসবেন। এই হাফ ম্যারাথনকে সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও সফল করতে তৈরি হচ্ছেন ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক। এক কিলোমিটার পরপর পানির বুথ, সড়কের বিভিন্ন মোড়ে দৌড়ের দিকনির্দেশনা, প্রাথমিক চিকিৎসার কাজে এঁরা নিয়োজিত থাকবেন।

মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ইমন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এই আয়োজনে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। চার দিনেই রেজিস্ট্রেশন শেষ হয়ে গেছে। এখনো অংশ নিতে অনেকে অনুরোধ করছেন। কিন্তু আয়োজন সুশৃঙ্খল রাখতে আমরা নতুন করে কাউকে আর নিচ্ছি না।’

সাইক্লিং কমিউনিটির আরেক অ্যাডমিন সঞ্জীব মীতৈ বলেন, ‘এবার হাফ ম্যারাথনের তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হবে। করোনার পর কয়েকটি লক্ষ্য নিয়ে আমরা এই হাফ ম্যারাথনের আয়োজন করেছি। সেগুলো হলো মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে তুলে ধরা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৌড়ের উপকারিতা প্রচার এবং জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সবার সামনে উপস্থাপন করা।’