সাতক্ষীরায় ১২ জনের বিএনপিতে যোগদান ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি দাবি

শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবারছবি: প্রথম আলো

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ১২ জনের বিএনপিতে যোগদান নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করা হচ্ছে। বিএনপির দাবি, তাঁরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর জামায়াত বলছে, তাঁরা কেউই তাদের দলের কর্মী নন।

গতকাল শুক্রবার ইউনিয়ন বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় এই ১২ জন বিএনপিতে যোগ দেন। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম আমজাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে ফুলের মালা গ্রহণ করে বিএনপিতে যোগ দেন ওই ১২ জন।

বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলাম বলেন, যোগদানকারীরা তাঁর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। জাতীয় নির্বাচনের সময় তাঁরা জামায়াতের (দল থেকে বহিষ্কৃত) সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেছিলেন এবং বিএনপির প্রার্থীর বিরোধিতা করেছিলেন। ওই সময় যোগদানকারীরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে কর্মী বা সমর্থক হিসেবে গাজী নজরুলের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দাবি, বিএনপি যাদের জামায়াতের কর্মী বা সমর্থক এবং গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করছে, তাঁদের একজনও জামায়াতের ঘোষিত কর্মী নন।

এই নেতার ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে গাজী নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, জামায়াত যে আদর্শ ও নীতির কথা বলে, বাস্তব কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন নেই। বিশেষ করে তাঁকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে বিএনপির এই দাবি নাকচ করেছেন পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইদ্রিস আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি যাদের জামায়াতের কর্মী বা সমর্থক এবং গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করছে, তাঁদের একজনও জামায়াতের ঘোষিত কর্মী নন। এমনকি অধিকাংশকে সমর্থকও বলা যাবে না। সর্বোচ্চ একজন হয়তো কোনো সময় সমর্থক ছিলেন। যোগদানকারীদের মধ্যে কেউ অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আবার কেউ নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষেও কাজ করেছেন।’

আমরা জামায়াতে ইয়ানত হিসেবে চাঁদা দিয়েছি, বিভিন্ন সময় জামায়াতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। গত নির্বাচনে আমরা জামায়াতের পক্ষে ভোট চেয়েছি এবং ভোটও দিয়েছি।
কামাল হোসেন, বিএনপিতে যোগদানকারী

বিএনপির এই প্রচারণার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন এই জামায়াত নেতা। তাঁর ভাষ্য, ‘পদ্মপুকুর ইউনিয়নে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। গত নির্বাচনে আমরা অনেক ভোট বেশি পেয়েছি। সেই জনসমর্থনে প্রভাব ফেলতেই বিএনপি এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে।’ গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক প্রসঙ্গে ইদ্রিস আলী বলেন, দল তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁকে ইস্যু করে জামায়াতের জনসমর্থনে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তবে ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন যোগদানকারীরা। তাঁদের একজন কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেকেই এখন প্রচার করছেন, আমরা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, তাঁরা কখনো জামায়াতে ছিলাম না। অথচ আমাদের কাছে এর প্রমাণ আছে। আমরা জামায়াতে ইয়ানত হিসেবে চাঁদা দিয়েছি, বিভিন্ন সময় জামায়াতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। গত নির্বাচনে আমরা জামায়াতের পক্ষে ভোট চেয়েছি এবং ভোটও দিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে জামায়াতের কার্যক্রমে হতাশ হয়ে সেই জামায়াতকে বাদ দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’

আরেক যোগদানকারী আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমি জামায়াতের একজন কর্মী ছিলাম। কিন্তু এখন আর এই দল করতে চাই না। জামায়াতের কাজকর্ম ভালো নেই। তাই বিএনপিকে বেছে নিয়েছি।’