সরকারি ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের মামলা করতে গেলেন, পুলিশ নিল ‘হারানো’র জিডি
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি ল্যাপটপ, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার সকাল সাতটার দিকে নগরের কোতোয়ালি থানার কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। বরং ল্যাপটপসহ মালামাল ‘হারিয়ে গেছে’ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. হাসান-উজ-জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ভোরে ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন তিনি। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে হেঁটে কদমতলী বাসস্ট্যান্ডের কাছে যাওয়ার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় দুই থেকে তিনজন যুবক ধারালো ছুরি নিয়ে তাঁকে জিম্মি করেন। পরে তাঁর কাছে থাকা ল্যাপটপ, মুঠোফোন, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেন।
হাসান-উজ-জামান খান বলেন, ‘থানায় গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে মামলা করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে জিডি নিয়েছে।’
কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা জানান, ছিনতাই হওয়া সরকারি ল্যাপটপে কাস্টমসের তথ্যের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অ্যাসাইকুডা সফটওয়্যার ইনস্টল করা রয়েছে। এতে বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংরক্ষিত রয়েছে।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর প্রথম আলোকে বলেন, ল্যাপটপ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলা না নিয়ে জিডি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিডি কেন নেওয়া হয়েছে, দেখছি।’
এর আগে গতকাল শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানার পাশের সতীশ বাবু লেনে এক রিকশাযাত্রীর পথরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত তিনজনের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।