ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা, এক সড়কে ৪ শতাধিক ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা
আঁকাবাঁকা একটি গ্রামীণ সড়ক। বড় যানবাহনের তেমন চলাচল না থাকলেও মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলে ব্যস্ত থাকে সড়কটি। সড়ক দিয়ে যেতেই পথচারী ও চালকদের চোখ আটকে যায় এক জায়গায়। সড়কের ৫০০ মিটার দীর্ঘ ওই অংশে শোভা পাচ্ছে একটি-দুটি নয়, একসঙ্গে ৪ শতাধিক পতাকা।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অবস্থিত ওই গ্রামীণ সড়কটির নাম লোহাগাড়া সড়ক। এটি বড় হাতিয়া ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সড়কটি দিয়ে ঢুকতেই বোঝা গেল, গ্রাম পর্যায়ে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। সামনে যেতেই কিছুদূর পরপর চোখে পড়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা ও সমর্থকদের ব্যানার। গাছে, বাড়ির ছাদে, বাঁশের খুঁটিতে, পুকুর ও কৃষিজমির মাঝখানে এসব পতাকা ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
সড়কের মাঝামাঝিতে এসে উত্তর আধুনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকা। এলাকাটি শেষ হয়েছে বড় হাতিয়া ইউনিয়নে। এলাকাটির ৫০০ মিটার অংশের সড়কে বাঁশের খুঁটিতে লাগানো হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ৪ শতাধিক পতাকা। ৩ থেকে ৪ ফুট পরপর সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা লাগানো হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো পতাকা দেখে পথচারীদের চোখ আটকে যায়। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলেন, ভিডিও ধারণ করেন।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৫ দিন আগে পতাকা লাগানোর এই উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় তরুণেরা। তাঁদের উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসীরা এতে অর্থায়ন করেছেন। ৪ শতাধিক পতাকা লাগাতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এলাকায় ব্রাজিল–সমর্থক বেশি। তাই দুই-তৃতীয়াংশ পতাকা ব্রাজিলের। কয়েকটি পতাকা চুরি হয়ে গেছে। তাই জনসমাগম কম, এমন এলাকায় পতাকা চুরি ঠেকাতে ইতিমধ্যে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
১৫ দিন আগে পতাকা লাগানোর এই উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় তরুণেরা। তাঁদের উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসীরা এতে অর্থায়ন করেছেন। ৪ শতাধিক পতাকা লাগাতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এলাকায় ব্রাজিল সমর্থক বেশি। তাই দুই-তৃতীয়াংশ পতাকা ব্রাজিলের। কয়েকটি পতাকা চুরি হয়ে গেছে। তাই জনসমাগম কম এমন এলাকায় পতাকা চুরি ঠেকাতে ইতিমধ্যে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় দোকানি মো. আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। প্রিয় দল নিয়ে রীতিমতো পাগলামি শুরু হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের এই পাগলামি সবাই পছন্দ করে। মাঠের বৈরিতা ভুলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৪০০ পতাকা টাঙিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকার অলিতে-গলিতে।’
সাহাব উদ্দিন নামের এক আর্জেন্টিনা–সমর্থক বলেন, ‘দল যার যার, আনন্দ সবার। আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থক হতে পারি, তবে ফুটবল তো আনন্দের মাধ্যম। এলাকার তরুণদের এই খুশিতে শরিক হতে পেরে আমাদেরও ভালো লাগছে। আমরা চাই হাঙ্গামামুক্ত সুন্দর একটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে। ’
কথা হয় সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্রাজিল–সমর্থকের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এ আয়োজন গ্রামের মধ্যে একটা উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।’
বড় হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কায়সার হাসান বাপ্পি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত দুই বিশ্বকাপেও ঐক্যবদ্ধভাবে এমন আয়োজন করেছেন ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। তবে এবারের আয়োজন গতবারের চেয়ে বড়। পতাকাও লাগানো হয়েছে বেশি। এই গ্রামে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উভয় দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে পর্দায় খেলা দেখেন, খাবারের আয়োজন করেন, আনন্দ করেন, যুক্তিতর্ক করেন। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ান না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরাও তাদের আনন্দে শরিক হই। তাদের উৎসাহ দিই।’
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর পাশাপাশি দাঁড়ানো দুটি সেতুই হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবল উৎসবের প্রতীক। একটির নাম ‘ব্রাজিল সেতু’, অন্যটি ‘আর্জেন্টিনা সেতু’। এক সেতুজুড়ে হলুদ-সবুজের আধিপত্য, অন্যটিতে আকাশি-সাদা। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই দুই সেতুতে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। পতাকা টাঙানো, রং করা, ব্যানার ঝোলানো—উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।
রাঙামাটিতে ব্রাজিল–সমর্থকদের শোভাযাত্রা
ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ লেগেছে রাঙামাটিতেও। গতকাল বেলা তিনটায় শহরের রিজার্ভ বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রা বের করেন ব্রাজিল–সমর্থকেরা। গন্তব্য আসামবস্তি কাপ্তাই সংযোগ সেতু, যা স্থানীয়দের কাছে ‘ব্রাজিল ব্রিজ’ নামে পরিচিত। শোভাযাত্রায় পরিবার-বন্ধু-প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে দুই শতাধিক বাইকে চার শতাধিক সমর্থক অংশ নেন। সবার পরনে হলুদ জার্সি, হাতে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা।
‘ব্রাজিল ব্রিজে’ আধঘণ্টা অবস্থানের পর শোভাযাত্রাটি আসামবস্তি থেকে ভেদভেদী, কলেজ গেট, টিটিসি, কল্যাণপুর, কে কে রায় সড়ক ও বনরুপা প্রদক্ষিণ করে রিজার্ভ বাজার চৌমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়। সেতুটি ব্রাজিলের পতাকার আদলে রাঙানো হয়েছে। শোয়াযাত্রায় আসা সমর্থক জুয়েল দত্ত বলেন, ‘ইতিহাস বলে, যারা বিশ্বকাপ নেয়, পরেরবার প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ে। জার্মানি-স্পেনের পর এবার আর্জেন্টিনাও প্রথম রাউন্ডের আগেই বিদায় নেবে।’
প্রিয় দল ব্রাজিলের জন্য শুভকামনা জানাতে এসেছেন জানিয়ে দেবু চক্রবর্তী বলেন, ‘ব্রাজিল সব সময় এগিয়ে থাকে। এবারও তারা ফেবারিট।’
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর পাশাপাশি দাঁড়ানো দুটি সেতুই হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবল উৎসবের প্রতীক। একটির নাম ‘ব্রাজিল সেতু’, অন্যটি ‘আর্জেন্টিনা সেতু’। এক সেতুজুড়ে হলুদ-সবুজের আধিপত্য, অন্যটিতে আকাশি-সাদা। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই দুই সেতুতে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। পতাকা টাঙানো, রং করা, ব্যানার ঝোলানো—উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।