যশোরে তারেক রহমানের জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত, খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসছেন নেতা–কর্মীরা

যশোরে তারেক রহমানের জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দিচ্ছেন নেতা-কর্মীরাছবি: প্রথম আলো

প্রথমবারের মতো আজ যশোরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনাসহ জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ভোর থেকেই নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে আসছেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে জনসভাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষেরা আলাদা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে যোগ দিচ্ছেন। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা আবার কারও কারও মাথায় নানা রঙের ক্যাপ। মঞ্চের সামনে বসার জন্য সকাল থেকে নেতা-কর্মীরা জায়গা ধরছেন।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়ারা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ফারুক হোসেন সকাল ১০টার দিকে জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান ঢাকায় যেদিন এসেছিলেন, সেদিনও ঢাকায় গিয়েছিলাম। আজ ৪০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে আমরা যশোরের জনসভায় এলাম। আমাদের সংসদ সদস্য প্রার্থীও যোগ দেবেন।’

বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপির প্রার্থীরা জনসভায় যোগ দেবেন। প্রধান অতিথি তারেক রহমান তাঁদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যশোরে আগমন উপলক্ষে এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে শুধু নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এই জনসভায় সাত জেলার দুই লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে আমরা আশা করছি। মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য আমরা জনসভাটি শহরের বাইরে উপশহরে নিয়ে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে আমাদের নেতা তারেক রহমান যশোরের জনসভায় যোগ দেবেন। জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের বসার জন্য মঞ্চের পাশে নির্দিষ্ট স্থান রাখা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে মঞ্চে উঠবেন তারেক রহমান।’

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সংসদ সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। তারেক রহমানের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা আছে। মানুষের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য আমাদের কোনো নির্দিষ্ট টার্গেট নেই। যাঁরা সমাবেশে আসবেন, তাঁরা ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই আসবেন। যশোরবাসীর জন্য আমাদের অনেক দাবি রয়েছে, যা লিখিত আকারে তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ভবদাহ সমস্যার সমাধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর বেলা দুইটার দিকে জনসভায় তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। এ সময় যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া বিএনপির ২২ প্রার্থীকে জনসাধারণের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবেন। প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবেন।

তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে কয়েক দিন আনন্দমিছিল প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। জনসভাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল বিকালে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জনসভাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনসমাবেশ ঘিরে আমরা নিরাপত্তা জোরদার করেছি। সমাবেশে আসা-যাওয়ার রাস্তা সব সময় পুলিশের নজরদারিতে থাকবে। এ ছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আলাদাভাবে করা হয়েছে।’