দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে নিহত নবদম্পতি কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও তাঁর স্ত্রী জহুরা অন্তিকে (২৭) রাজবাড়ীতে একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘সৌম্যর পরিবার আমার প্রতিবেশী এবং খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিছুদিন আগে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও আমি ছিলাম। কিন্তু আজ তাদের জানাজায় শরিক হতে হবে, ভাবতে পারছি না। পরিবারের একমাত্র সন্তান সৌম্যকে হারিয়ে ওর বাবা বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই শোক জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। একই সঙ্গে যাঁরা এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, আল্লাহপাক যেন তাঁদের শোক সই সইবার শক্তি দেন। আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে।’
সৌম্যর বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ বলেন, ‘সেজ ভাই কাজী মুকুলের একমাত্র ছেলে সৌম্য ও পুত্রবধূ অন্তির মৃত্যুতে পরিবারের সবাই বাক্রুদ্ধ। সৌম্যকে ছোটবেলা থেকে লালন–পালন করেছি। পড়ালেখা করিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি, চাকরি দিয়ে বিয়েও দিয়েছি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বছর পার না হতেই নিমেষে সব শেষ হয়ে গেল। আজকে আমার এই দুই সন্তানের লাশ সামনে নিয়ে জানাজা পড়তে হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের পরিবারে কাছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ তুলে দেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নবদম্পতি। দৌলতদিয়ার ঘাটে ফেরি থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসের যাত্রী ছিলেন তাঁরা। বাসডুবিতে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সৌম্য ও তাঁর স্ত্রী অন্তিও রয়েছেন।