দিনাজপুরে গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ প্রস্তুত, ঈদের জামাত সকাল ৯টায়

দিনাজপুরে ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য ঈদগাহ গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে চুন দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাইন টানার কাজ করছেন এক শ্রমিক। আজ শুক্রবার সকালেছবি : প্রথম আলো

দিনাজপুরে ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য ঈদগাহ গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ঈদ আয়োজনে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সকাল ৯টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।

আজ শুক্রবার সকালে গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ ঘুরে দেখা যায়, শতাধিক শ্রমিক মিনার ধোয়ামোছা ও মাঠ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। তোরণ নির্মাণের কাজ করছেন একদল শ্রমিক। চুন দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাইন টানার কাজ করা হয়েছে। মাঠের চারপাশে ২০টি প্রবেশপথ, ওয়াচ টাওয়ার ও গাড়ি পার্কিংয়ের কাজ চলছে। মিনারের পেছনে অজুখানা ও পূর্ব–দক্ষিণ কোণে টয়লেট পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহৎ এই ঈদগাহে মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক ও যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ঈদের নামাজ আদায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের আগেও এ মাঠে ঈদের জামাত হতো। ছোট একটি মিম্বরও ছিল। আশপাশের মানুষ নামাজ আদায় করতেন। তবে ২০১৭ সালে মিনার প্রতিষ্ঠার পরে লোকসমাগম বেড়েছে কয়েক গুণ। দিনাজপুরসহ পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও জেলা থেকেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি জেলায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ঈদগাহ মিনারটি।

সবুজ ঘাসে মোড়ানো দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের আয়তন প্রায় ২২ একর। খেলাধুলা, আড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এ মাঠেই হয়। মাঠের পশ্চিমে লাল খয়েরি আর সাদা রঙের মিশ্রণে ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের সুউচ্চ ঈদগাহ মিনারটির সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে। ঈদগাহ মিনারটি তৈরি করা হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতিতে। মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট ঈদগাহ মিনার। এর মধ্যে দুই প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট। মাঝের দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট আর টাইলস করা মেহেরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এতে খিলান আছে ৩২টি। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে তৈরি মিনারটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা।