প্রকৃত আসামি প্রবাসে, নামে মিল থাকায় জলিল হাওলাদার ২০ দিন কারাগারে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতারণায় মামলায় প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার না করে নাম ও বাবার নামে সাদৃশ্য থাকায় মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামের অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পাঠানো একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিপরীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ দিন পর আজ মঙ্গলবার একই আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
ভুক্তভোগী মো. জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বয়স ৪৭ বছর। তিনি পেশায় একজন জেলে।
জলিল হাওলাদারের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর (বাদশা) বলেন, ‘মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। কিন্তু নাম ও পরিচয়ে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ আমার মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। আজ মঙ্গলবার আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আইনজীবী হুমায়ুন কবীর জানান, কারাগারে জামিনের নথি পৌঁছানোর পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে জলিল হাওলাদার মুক্তি পেয়েছেন।
এ সম্পর্কে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপিতে আসামির মায়ের নাম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকলে এ ধরনের ভুল হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর জামিন পাওয়ার বিষয়ে আইনজীবী নিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।’
গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন মহিপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন মহিপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম। পরে একই দিন তাঁকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদারের মেয়ে জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তারের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার জন্য দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করেন। তাঁর বাবার নামে এ ধরনের কোনো মামলা নেই বলেও পুলিশকে জানান। কিন্তু পুলিশ তাঁর ও স্থানীয় লোকজনের আপত্তি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে তাঁর বাবাকে আদালতে পাঠায়।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাড়িও একই এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর মায়ের নাম মাজেদা বেগম এবং বয়স ৩৫ বছর।
প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাবা আবদুল মালেক হাওলাদার জানান, তাঁর ছোট ছেলে জলিল হাওলাদার ২০২৩ সালের দিকে সৌদি আরবে যান। এরপর আর দেশে ফেরেননি। তাঁর ছেলের পরিবর্তে পুলিশ অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি তিনি মহিপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি কলাপাড়ার শিববাড়িয়া এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করেন। মামলার আরজিতে তিনি আসামির কাছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনা থাকার কথা উল্লেখ করেন।
পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামি জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ মে তাঁর সম্পদ জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়।