জমা রাখা টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা উধাও, প্রতিবাদ জানাতে এসে জ্ঞান হারালেন ব্যবসায়ী
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী স্টেশন চত্বর। দুপুরের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এখানে জড়ো হন কয়েক শ নারী-পুরুষ। জমায়েত হওয়া লোকজন বেসরকারি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় গ্রাহক। কয়েক দিন আগে টাকা তুলতে এসে জানতে পারেন, তাঁদের জমা টাকা নিয়ে পালিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সড়কে জড়ো হওয়া গ্রাহকেরা এক পর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। শুরু হয় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। সেখানে অনেকের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশ নিতে এসেছিলেন স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলার সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান। লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।
আজ শনিবার দুপুরে উখিয়ার পালংখালীতে ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা। অভিযোগ, কর্মকর্তারা গ্রাহকদের অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। কর্মসূচিতে আসা ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ব্যাংকটির ওই শাখায় ৯ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন বলে জানা তাঁর এক আত্মীয়। তিনি বলেন, টাকা হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন শাহজাহান। বলতে গেলে এটি তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয়।
গ্রাহকদের কর্মসূচি শুরু হয় বেলা দুইটায়। এ সময় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ এবং টেকনাফ থেকে কক্সবাজারমুখী কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। তীব্র যানজটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিকেল পাঁচটায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচি চলার সময় ‘প্রতারকের বিচার চাই’, ‘আমাদের টাকা ফেরত চাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেশন এলাকা। এ সময় অনেক গ্রাহক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পালংখালী বাজারে অবস্থিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে টাকা জমা ও উত্তোলন করে আসছিলেন গ্রাহকেরা। সম্প্রতি টাকা তুলতে গেলে গরমিল দেখতে পান। শাখার ম্যানেজার–ক্যাশিয়াররা নানা অজুহাতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। টাকার জন্য গ্রাহকেরা ব্যাংকে ভিড় শুরু করলে গত ১৭ আগস্ট সবাই উধাও হন।
প্রতিবাদ সমাবেশে পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বলেন, ‘আল আরাফাহ্ ব্যাংকে নিজের হিসাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে লেনদেন করছি। সম্প্রতি টাকা তুলতে গিয়ে দেখি হিসাবে টাকা নেই। ব্যাংকটির সংঘবদ্ধ চক্র কয়েক শ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন। আমরা টাকা ফেরত চাই এবং জড়িতদের শাস্তি চাই।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পালংখালী এজেন্ট শাখার কর্মকর্তারা কয়েক শ গ্রাহকের অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হন। গত ১৭ আগস্ট ২১ জন গ্রাহকের পক্ষে আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বাদী হয়ে ব্যাংকটির ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। কক্সবাজার আদালতেও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে পাঁচটি মামলা করেছেন। আরও অনেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পুলিশ জানায়, ১৮ আগস্ট পুলিশ মামলার আসামি ও ব্যাংকটির এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ব্যাংকে তালা
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পালংখালী বাজারে অবস্থিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে টাকা জমা ও উত্তোলন করে আসছিলেন গ্রাহকেরা। সম্প্রতি টাকা তুলতে গেলে গরমিল দেখতে পান। শাখার ম্যানেজার–ক্যাশিয়াররা নানা অজুহাতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। টাকার জন্য গ্রাহকেরা ব্যাংকে ভিড় শুরু করলে ১৭ আগস্ট সবাই উধাও হন।
উখিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকের চাবি পালংখালী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে জমা রাখা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে, যাতে গ্রাহকেরা নিজেদের আমানত ফেরত পান।