সংশয় ছিল পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে, সেই প্রার্থনা মৃধা সংবর্ধনা মঞ্চে শোনাল সাফল্যের গল্প
শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন, এবার হয়তো আমার পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। এমনকি ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালে আমি প্রায় ৫০ মিনিট অচেতন ছিলাম। কিন্তু আমার মায়ের অক্লান্ত চেষ্টা ও সাহসে আমি শেষ পর্যন্ত পরীক্ষাটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরে আমি আজ অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনায় কথাগুলো বলছিল প্রার্থনা মৃধা। গোপালগঞ্জ সদরে তাদের বাড়ি। সে এবার জেলা সদরের বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
সংবর্ধনার গোপালগঞ্জ পর্ব আয়োজন করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। জেলা বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রদ্যুত রায়ের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি নুতন শেখ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. সোহেল হাসান বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন জীবনের একটি সাফল্য, কিন্তু এটিই শেষ কথা নয়। সামনে আরও কঠিন প্রতিযোগিতা অপেক্ষা করছে। এখন প্রতিযোগিতা শুধু দেশ বা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
গোপালগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুল করিম বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জন করাই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়; একজন ভালো, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি আরও বলেন, মাদক, মিথ্যা ও অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে।
প্রথম আলোর উপবার্তা সম্পাদক কাজী আলিম-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মূল বই পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘কৃতী শিক্ষার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ নিজের এলাকা, মা, মাটি ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অনির্বাণ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবু হোসেন, পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী প্রার্থনা মৃধাসহ পাঁচ শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেয়। ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন গোপালগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি ফারদুল্লাহ লস্কর। সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল নৃত্য ও গানের আয়োজন।