এর মধ্যে আবদুর রউফ মণ্ডলসহ ছয়জন শিক্ষকেরই এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আবদুর রউফ মণ্ডলের এমপিও বাতিল হয়নি। এর পর থেকে তিনি আগের মতোই সরকারি সুবিধা ভোগ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন–ভাতা বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বিভাগের সচিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবদুর রউফ ২০০৫ সালে সাচিবিকবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে কারিগরি বোর্ডের জনবল কাঠামো অনুসারে তাঁর ওই পদে আবেদন করার যোগ্যতা ছিল না। ওই নিয়োগের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য অনুষদের যেকোনো বিষয়, পরিসংখ্যান, গণিত, অর্থনীতির মধ্যে যেকোনো একটিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ সাচিবিকবিদ্যার প্রশিক্ষণ সনদ থাকার কথা নিয়োগ বিধিতে বলা ছিল। এসব শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনোটাই আবদুর রউফ মণ্ডলের নেই। তিনি ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর প্রশিক্ষণের সনদও নেই।

ওই সময় আবদুর রউফ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সনদ দিয়েছিলেন, যা দিয়ে ওই বিষয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ ছিল না। নিয়োগের আগে তৎকালীন ইউএনও এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সুবোল বোস মনি তাঁর আবেদনপত্রটি বাতিল করেছিলেন। ইউএনও অন্যত্র বদলি হওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যদের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁর জালিয়াতির সমর্থনে বিভিন্ন প্রমাণও সংযুক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত ও এমপিও বাতিলের সুপারিশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, আবদুর রউফ মণ্ডলের নিয়োগকালীন প্রশিক্ষণ সনদ সরকারের কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের নয়। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি যথাযথ ছিল না। এ জন্য তাঁর এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল। কী কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্যসহ স্থানীয় ২০-৩০ জন বলেন, তিন বছরেও আবদুর রউফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত এমপিওভুক্তির সভায় তাঁকে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও শাখার সহকারী পরিচালক বিমল কুমার মিশ্রের স্বাক্ষর রয়েছে। ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতির ব্যবস্থা করায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

তবে অভিযুক্ত আবদুর রউফ মণ্ডল গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাঁর সব সনদ ও নিয়োগ বৈধ বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও শাখার সহকারী পরিচালক বিমল কুমার মিশ্রের বক্তব্য জানতে তাঁর ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন ধরেননি। ইউএনওর দপ্তরে এ–সংক্রান্ত একটি অভিযোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চিঠিপত্র গ্রহণ শাখা। ইউএনও না থাকায় এর সুরাহা বা তদন্ত করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন