নওগাঁয় আমানতের ‘৩ কোটি টাকা’ নিয়ে উধাও সমিতির লোকজন, গ্রাহকদের মানববন্ধন

নওগাঁর সাপাহারে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় শতাধিক গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা। গ্রাহকেরা আমানতের টাকা নিতে এসে দেখেন সমিতির কার্যালয় বন্ধ। তাঁরা মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না।

প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। আমানতের টাকা ফেরত পেতে এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল হালিমসহ অন্য কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাপাহার উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন।

ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের কোচকুড়-লিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম ও স্থানীয় আরও কয়েকজন মিলে ২০১৬ সালে ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতির লিমিটেড’ (রেজি. নম্বর-২৩৬৬) নামে একটি সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। সাপাহার দীঘিরহাট এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালানো হতো। অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় আশপাশের এলাকার লোকজন ওই সমিতিতে টাকা জমা রাখেন। আমানতের বিপরীতে নিয়মিত লভ্যাংশও দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর হঠাৎ সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ করে আমানতকারীদের টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের এমডি আবদুল হালিমসহ অন্য কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যান। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক গ্রাহক তাঁদের প্রায় তিন কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এরপর তাঁরা উপজেলা প্রশাসন ও থানা–পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি।

উপজেলার দীঘিরহাট এলাকার আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। সমিতির এমডি আবদুল হালিম পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাঁর কথায় বিশ্বাস করে লাভের আশায় ২০২০ সালে অবসর ভাতার ১৫ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা করেছিলাম। প্রতি মাসে লাখে আড়াই হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়ার শর্ত ছিল। টাকা জমা দেওয়ার পর থেকেই লভ্যাংশ দেওয়া নিয়ে সমিতির লোকজন টালবাহানা শুরু করে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর রাতারাতি আবদুল হালিম ও সমিতির লোকজন পালিয়ে যায়। তাদের ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। লাপাত্তা হওয়ার পর দুই বছর হতে চললেও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন।’

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মফিজান বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি একজন বিধবা। দুই সন্তান নিয়ে সংসার। আমার ছেলেকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে আট লাখ টাকা তারা নেয়। এরপর কিছুদিন লাভ দেওয়ার পরে তারা আর টাকা দিচ্ছে না। আমানতের মূল টাকা ও লভ্যাংশ না পাওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ওই টাকার ওপর আমার সংসার চলত। দুই বছর সমিতির অফিসে ঘুরছি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই ও আবদুল হালিমের শাস্তি চাই।’

সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তারপরও বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাপাহারের ইউএনও রোমানা রিয়াজ বলেন, ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কাছ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি। এ বিষয়ে বিধিমোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’