মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনে ৩০ বছর পর জয়ের মুখ দেখেছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকতুল ইসলাম (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়ে ৩০ বছর আগে হারানো আসনটি ফেরত পেল দলটি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা)। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সায়েদ আলী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট। এ আসনে ১০৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এম শাহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। এরপর সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দলটির আর কোনো প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। এ অবস্থা শুধু বিএনপির ক্ষেত্রে হয়নি। ২৮ বছর পর গত ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। সে সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের পর এ আসনে কখনো বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, আবার কখনো স্বতন্ত্র কিংবা জোটের শরিক দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। শওকতুল ইসলাম এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। পরে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন।
ফল ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে শওকতুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকলাম। কথা দিচ্ছি, জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আমি কুলাউড়ার উন্নয়নে কাজ করে যাব।’
এ আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল প্রতীক) ১৩ হাজার ৭৫৪, উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এম জিমিউর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ২ হাজার ১৪১, বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি) ৫৯১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস (হাতপাখা) ৫২০ এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মো. আবদুল মালিক (লাঙ্গল) ৪৮৪ ভোট পান।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের এক–অষ্টমাংশ না পাওয়ায় এ আসনের পাঁচজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।