চকরিয়ায় নিজের মাছের ঘেরের পাশেই পড়ে ছিল মালিকের লাশ

মঞ্জুর আলমছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি মাছের ঘেরের পাশ থেকে মালিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের পশ্চিম ডুমখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লাশ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম (৫৫)। তিনি উপজেলার ডুমখালী এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে। পরিবারের দাবি, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাঁকে পিটিয়ে ও পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, মঞ্জুর আলমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। এরপরও অভিযোগ থাকায় ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মঞ্জুর আলমের বড় ভাই জামাল হোসাইন বলেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চিংড়ি জোনের বড় ডুমখালী ঘোনায় তাঁদের মালিকানাধীন চার একরের একটি মৎস্যঘের রয়েছে। সেই ঘেরের দখল নিতে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। ঘের থেকে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জামাল হোসাইন দাবি করেন, ‘সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মৎস্যঘেরে ফের হানা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ঘেরের খামার বাড়িতে অবস্থান করা আমার বড় ভাই মঞ্জুর আলমকে ধাওয়া দিয়ে পাশের খালে নিয়ে যায়। সেখানে পিটিয়ে ও পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।’

জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মঞ্জুর আলমের মরদেহের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী বাহিনী মৎস্যঘেরে হামলা করে বিভিন্ন সময়ে মাছ ও সরঞ্জাম লুট করেছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মঞ্জুর আলমের মৃত্যুর সঙ্গে সেই বাহিনীর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’