গতকাল রাতে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীরা হলেন সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন কবির, দিঘুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী মো. রেজা মিয়া ও সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী মো. রজ্জব আলী।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে গত ২৯ নভেম্বর রাতে ২৮ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির প্রথম আলোকে বলেন, সামান্য একটা সমাবেশের ভয়ে আওয়ামী লীগ সরকার অস্থির হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক রাজনীতি বিশ্বাস করে না। তারা পুলিশকে ব্যবহার করে ‘কাল্পনিক মামলায়’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি সঠিক নয়। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় মামলা আছে। বিজয় দিবস, থার্টি ফাস্ট৴ নাইট ও জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা চালাতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। মাসব্যাপী এই অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

কেউ আত্মগোপনে, কেউ ঢাকায়

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে আছেন। এ ছাড়া ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অনেকেই ঢাকা বা ঢাকার আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরতাজ আলম বলেন, পুলিশ প্রতিদিন রাতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে। ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে কয়েক দিনে জেলার সাতটি উপজেলায় বিএনপির দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীর নামে বিস্ফোরণ ও নাশকতার মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে নেতা-কর্মীরা যাতে যেতে না পারেন, সে জন্য এসব মামলায় তাঁদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার এড়াতে দলীয় নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ঢাকায় দলের গণসমাবেশে উপস্থিত থাকতে আগেই ঢাকায় অবস্থান করছেন।

পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সাতটি থানায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব মামলা করে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এসব মামলা ১৪৪ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।