সংসদ সদস্য শহরের মাইজদী বাজার এলাকার একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই যে বাজিগর বাড়ি, এখানে দুনিয়ার অপকর্ম হয়। এখানকার ২০ থেকে ২৫টা ছেলে আছে, যেগুলা সারাক্ষণ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে। আপনারা কঠোর হন। মেয়েরা সন্ধ্যার পর চলাচল করতে পারে না। এসব রিপোর্ট আমার কাছে আসলে আমি এমপি হিসেবে লজ্জাবোধ করি।’

একরামুল করিম চৌধুরী আরও বলেন, ‘ইদানীং সংবাদপত্রগুলোতে একটা জিনিস দেখা যায়, বাংলাদেশের রিজার্ভ ডাউনের দিকে যাচ্ছে। আমি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের এইটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের রিজার্ভ কখনো নামবে না। কারণ, ভারত ও বাংলাদেশ যে চুক্তি করেছে, তাতে ডলার নয়, রুপির বিপরীতে এলসি (ঋণপত্র) খোলা যাবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি এলসি খোলা হয় ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য। এই সুবিধা চালু হয়ে যাওয়ার পর রিজার্ভের ওপর কোনো চাপ থাকবে না। যাঁরা বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে, তাঁদের আমরা বলি, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা নয়, সিঙ্গাপুর হবে।’

সরকারি দলের সংসদ সদস্যের নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কোথায় চাঁদাবাজি চলছে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তাঁদের কাছেও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ এলে তাঁরা বিষয়টি দেখতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে নেই।’

এ সময় একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালীর সোনাপুর-চৌমুহনী চার লেন সড়ক প্রকল্পের কাজে ধীরগতি ও শহরের বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি শহরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে চার লেন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি বিদ্যুতের সমস্যা দূর করতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের পরপর তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় কোন্দলের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র থেকে ২০১৯ সালে গঠিত কমিটি বিলুপ্ত করে ৮৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তাঁকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন