বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেকে উঠবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ নির্মাণ প্রকল্পটি আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ শুক্রবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া ও ঠিকাদার নিয়োগ করতে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর লেগে যাবে। এরপর মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
এর আগে ১ জুন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প সংশোধন করে বগুড়া সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে রেলপথ নেওয়া ছাড়াও রানীরহাট জংশন থেকে গাবতলী স্টেশন পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র দেন। বগুড়া থেকে রেল যোগাযোগ সরিয়ে নেওয়ার এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়।
মীর শাহে আলম এ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বলেন, ‘বগুড়া থেকে রেললাইন সরানোর প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্তের পর পক্ষে–বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা দুটোই আছে। পক্ষ–বিপক্ষকে মাথায় নিয়ে বগুড়ার বিষফোড়া যানজট নিরসনে রানীরহাট থেকে যেখানে বগুড়ার রেলসংযোগ এসে মিলবে, সেখান থেকে ঢাকার মেট্রোরেলের আদলে বগুড়া মহানগর এলাকায় ওভারপাস রেললাইন নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে রানীরহাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নতুন করে রেললাইন নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। বগুড়া মহানগরীবাসীও রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। বগুড়া রেলস্টেশন হবে মেট্রো স্টেশনের আদলে দোতলায়। নিচের জায়গা রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে সিটি করপোরেশন। ইতিমধ্যে এ উদ্যোগের সম্ভ্যবতা যাচাই শুরু করা হয়েছে। তত দিনে মূল প্রকল্পের কাজ চলবে। রেলমন্ত্রী ও সচিবকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে লুপ লাইন হবে ৩৩ কিলোমিটার। প্রকল্পে করতোয়া নদীর ওপর ২৮৬ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি সেতু, ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার একটি সেতু, ২২১টি ছোট–বড় সেতু, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস নির্মাণ, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ; সিরাজগঞ্জ ও রানীরহাটে দুটি জংশন নির্মাণ; কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, ছনকা, শেরপুর, আড়িয়াবাজার রেলস্টেশন নির্মাণ এবং বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর তিনটি রেলস্টেশন নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হবে।
বগুড়ায় হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনই সংশোধিত আইনটি পাস হবে বলে মতবিনিময় সভায় জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছরের উন্নয়নবঞ্চনা ঘোচাতে এবং শিক্ষা, শিল্পসহ যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পুরোনো জেলা বগুড়ার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘বগুড়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিধি সীমিত। এ কারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে অনুশাসন জারি করেছেন। আমার নেতৃত্বে একটি কমিটিও করে দিয়েছেন। কমিটির কয়েক দফা বৈঠক শেষে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য উঠবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে, ভবিষ্যতে যাতে বগুড়ায় কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন না পড়ে এ কারণে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, বাণিজ্য অনুষদের পাশপাশি চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষিসহ সব কটি অনুষদ থাকবে। পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়াও দেশি-বিদেশি গবেষকদের জন্য এখানে গবেষণার ব্যবস্থা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী চান, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হবে মহানগরীর বাইরে কোলাহলমুক্ত কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বগুড়া প্রেসক্লাবের উন্নয়নের জন্য এক কোটি টাকা উপহার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ অর্থ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।