সড়কে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ফলকগুলো দেখার কেউ নেই

নামফলকগুলো কোনো রকমে টিকে আছে। সংস্কারের উদ্যোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানেরা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে স্থাপিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ফলকগুলো এভাবেই জরাজীর্ণ ও অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। শ্রীপুর পৌর শহরের কাঁচাবাজারেছবি: প্রথম আলো

কোনো নামফলক ভেঙে গেছে, হেলে পড়েছে, ধুলার আস্তরণের জন্য কোনোটা বোঝার উপায় নেই নামফলক নাকি খুঁটি। এমনই দশা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করা সড়কগুলোর নামফলক। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে তাঁদের নামে উপজেলাটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় থাকা ছোট–বড় প্রায় ৩০০ সড়কের নামকরণ করা হয়। অযত্নে–অবহেলায় পড়ে আছে নামফলকগুলো। সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সড়কগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার উদ্যোগ নেয় সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো বাস্তবায়ন করে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। নামফলকগুলোর জীর্ণদশার বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছেই শুনলাম। আমি এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেব। আশা করি এই সমস্যার সমাধান হবে।’

শ্রীপুরের গাজীপুর বাজারের একটি আঞ্চলিক সড়কের নামকরণ হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদের নামে। নামফলকটি বেহাল। প্রথম আলোকে আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার নামের ফলকটির কিছু অংশ ভেঙে গেছে। আশপাশের আরও অনেকেরই নামফলকের জীর্ণদশা। এসব বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে আবেদন করেছিলাম। এখনো সংস্কার করা হয়নি।’

গতকাল বুধবার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, নামফলকগুলো কোনো রকমে টিকে আছে। শ্রীপুর পৌর শহরের কাঁচাবাজার সড়কটি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ সোমের নামে করা হয়েছে। কংক্রিটের নামফলকে টাইলসের ওপর প্রিন্ট করে লেখা ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম। এটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে পাশের মুদিদোকানের মালামাল রাখার কাজে। নামফলকটি বিলিনের পথে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নতুনবাজার-মাধখলা সড়কের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম লুৎফর রহমানের নামফলকটি বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে।

গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি-শ্রীপুর সড়কের আমতলী নামক স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য রহমত আলীর নামফলকটি বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলকে লেখা নাম ধুলা–ময়লার কারণে বোঝা যায় না। একই এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফের নামে ফলকটি বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা। শ্রীপুর রেলক্রসিং থেকে গুমটিঘর সড়কের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক মণ্ডল নামফলকটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের সামনে একটি আঞ্চলিক সড়কের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিনের নামের ফলকটির একটি অংশ খুলে পড়ে গেছে। অন্যান্য অংশের স্থানে স্থানে ভাঙা।

গোসিংগা-কাপাসিয়া সড়কের দক্ষিণ দিকে বাজারের শেষ প্রান্তের একটি অংশে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিব উল্লাহ ফকিরের নামফলকের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। গোসিংগা-বরমী সড়কের পেলাইদ গ্রামের একটি আঞ্চলিক সড়কের নামকরণ হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের নামে। সেখানে স্থাপিত নামফলকটি এক দিকে কাত হয়ে গেছে। ফলকের বিভিন্ন স্থান থেকে টাইলস ভেঙে পড়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানেরা। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের ফলকগুলোর এমন দশা দেখে ভীষণ কষ্ট হয়। অনেক জায়গায় নামফলক এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর ওপর মানুষ জুতা নিয়ে চড়ে বসে। এ দৃশ্য জাতির জন্য অস্বস্তিকর। এ বিষয়ে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

পদাধিকারবলে শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভেঙে যাওয়া কিংবা অন্যের জমিতে স্থাপিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলকগুলো সংস্কার ও নতুন করে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগির কাজ শুরু হবে।