ফতুল্লায় গ্যাসের লিকেজে বিস্ফোরণে দগ্ধ বাবার পর না–ফেরার দেশে মেয়ে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ বাবার পর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত বছর বয়সী শিশু কথা মারা যায়।
এর আগে সোমবার সকালে একই ঘটনায় দগ্ধ তার বাবা মো. কালাম (৩৫) মারা যান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাবা-মেয়েসহ দুজনের মৃত্যু হলো। দগ্ধ অন্য তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আবুল কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান। পরে বুধবার সন্ধ্যায় তার মেয়ে কথারও মৃত্যু হয়। দগ্ধ অন্য তিনজন এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) চিকিৎসাধীন।
এর আগে গত রোববার ভোরে সদর উপজেলার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকায় নয়তলা ভবনের নিচতলায় পাইপলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মো. কালাম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৭), মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) দগ্ধ হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। আবুল কালাম পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে কক্ষে গ্যাস জমে ছিল। ভোরে চুলা বা লাইটার জ্বালানোর সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।