আমার আন্দোলন দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে আগে মেধার ভিত্তিতে আসন (সিট) বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলে বেশ কিছু ছাত্রীকে আসন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি। এতে অনেক ছাত্রী সমস্যায় পড়েছেন। তাই এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্নাতকোত্তরের
শিক্ষার্থী রেসমিনা হক। একই সঙ্গে তিনি মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এককভাবে এই কর্মসূচি পালন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন কামরান পারভেজ–এ সঙ্গে।

রেসমিনা হক:

প্রশ্ন :

আপনার একক এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কি কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে?

রেসমিনা হক: আমার এ প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা আমার এ আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং নৈতিকভাবে পাশে থেকেছেন। আশা করি এরপর থেকে যেকোনো অনিয়মের প্রতিবাদে অনেকেই প্রকাশ্যে আমার পাশে থাকবেন।

প্রশ্ন :

প্রতিবাদ করতে গিয়ে আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অসহযোগিতা বা হুমকি পেয়েছেন?

রেসমিনা হক: সরাসরি কেউ কোনো হুমকি দেয়নি। তবে কেউ কেউ চেয়েছে, আমি যেন এ প্রতিবাদটা না করি। আমাকে নিরুৎসাহিত করেছে কেউ কেউ। একটি ছাত্রসংগঠনও চেয়েছে, আমি যেন প্রকাশ্যে এমন প্রতিবাদ না করি।

প্রশ্ন :

আপনার প্রতিবাদের ছবি ও খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রে। এ নিয়ে আপনার ও সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া কী?

রেসমিনা হক: সংবাদপত্রে ছবি ও খবর প্রকাশ হওয়াটা আমার জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। আমার মনে হয়, এতে অনেকেই অধিকার আর দাবি আদায়ের আন্দোলনে যোগ দেবেন।

প্রশ্ন :

মেধার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের দাবি আপনার। তাহলে এর আগে কিসের ভিত্তিতে আসন বণ্টন হয়েছে?

রেসমিনা হক: এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ ঐতিহ্য হচ্ছে, এখানে ছাত্রীদের হলে মেধার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হতো। অর্থাৎ আগে মেধার ভিত্তিতেই আসন বরাদ্দ হতো। তবে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। আগে আসন পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ্যে নোটিশ বোর্ডে ঝোলানো হতো। কিন্তু এখন শিক্ষার্থীদের তালিকা আর নোটিশ বোর্ডে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রশ্ন :

ছাত্রীদের হলে আসন বণ্টনের অনিয়ম ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কী কী সমস্যা রয়েছে?

রেসমিনা হক: আসন-সংকট এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্যই হলে আসন থাকা উচিত। কিন্তু তা নেই। এখানে ছেলের হলের তুলনায় মেয়েদের হল কম। গণরুমে যে মেয়েরা থাকেন, তাঁদের পড়ার টেবিল পর্যন্ত নেই। খাবার নিম্নমানের। কিন্তু খাবারের দাম বেশি। এ ছাড়া হলগুলোতে পানির সমস্যা রয়েছে।

প্রশ্ন :

শেষ পর্যন্ত আপনার দাবি পূরণ হবে বলে মনে করেন কি?

রেসমিনা হক: উপাচার্য স্যার আপাতত দেশে নেই। ২৬ অক্টোবর তিনি দেশে আসবেন। দেশে এলে আমার দাবি বা আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে আশা করছি। যদি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে আবারও প্রতিবাদ করব। আশা করি তখন আমার সঙ্গে আরও অনেকেই যুক্ত হবেন।