বিএনপি ও জামায়াত-শিবির একদল, ভেতরে ভেতরে আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে: জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ভাগ–বাঁটোয়ারা করে জামায়াত-শিবির সব করত। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে তারা কিছু চিৎকার করতেছে; কিন্তু ভাগ–বাঁটোয়ারা ঠিকই হচ্ছে। ভুল করবেন না। বিএনপি, জামায়াত–শিবির ও তাদের দোসর একদল। ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের নেতা–নেতা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ঠিক আছে।’
রংপুর নগরীর দর্শনা মোড়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে মঙ্গলবার দুপুরে জি এম কাদের এ কথা বলেন। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করছে। আর ২০২৪-এ দিনের ভোট সব খারাপ করছে। এইখানেও দিনের ভোট রাতে হইছে, পরের দিন সকালে হইছে, দুপুরে হইছে, রাত্রে হইছে, তারপরের দিন হইছে। অনেক সময় ভোট ছাড়াই পেপারের মধ্যে লেখা হইছে—এই লোক এত ভোট পাইছে, তার ব্যালট নাই। এগুলোর যথেষ্ট ধরনের প্রমাণ, নথি আমরা পেয়েছি। নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করলেও আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে খবর পাচ্ছি, সেখানে নিশ্চিতভাবে কাদের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল জামায়াত-শিবির-বিএনপি ও তাদের দোসরদের। তারা মিলেমিশে এই ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আইনগতভাবে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। একতরফা নির্বাচন কোনো নির্বাচন নয়। এটা অবাধ নয়, সুষ্ঠু নয়, কোনো নির্বাচনই নয়।’
এখনো আওয়ামী লীগের লোক বা দোসর বলে যেকোনো লোককে যেকোনো স্থানে ধরে মব তৈরি করে মারা হচ্ছে, পেটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো শুধু তাদের মারত। একটা লোককে মারত, তাদের জেলখানায় দিত। এখন কিন্তু মানুষ শুধু হত্যা করা হচ্ছে না, মানুষের ঘরবাড়ি–ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই গণ-আন্দোলন অসমাপ্ত উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ‘জুলাই গণ–আন্দোলন সফলও বলব না, বিফলও বলব না। অসমাপ্ত। এখনো সমাপ্ত হয়নি। মানুষ এই আন্দোলন করেছিল বৈষম্যবিরোধী একটি সমাজ ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের জন্য, যার মাধ্যমে আইনের শাসন ও বৈষম্যমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সেই স্বপ্ন মানুষের এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে।’
আবার আন্দোলন হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘মানুষ এই স্বপ্ন নিয়ে বসে থাকবে না। মানুষ আন্দোলন আবার শুরু করবে। অচিরেই শুরু হবে আন্দোলন। তার কারণ, সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আইনশৃঙ্খলার কোনো রকম কোনো নিশ্চয়তা নেই। মানুষের জানমাল–ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। যাকে যখন যেভাবে ইচ্ছা হচ্ছে বেইজ্জত করা হচ্ছে, মেরে ফেলা হচ্ছে, বাড়িঘর লুট করা হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মৃতিচারণা করে আরও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান প্রমুখ।