রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ৪৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষি রক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া তিস্তা রেলসেতুর নিচে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ইশতেহার ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘রংপুর-৪ আসন তিস্তা বিধৌত একটি জনপদ। আমরা আজ যেখানে বসে সংবাদ সম্মেলন করছি, সেই তিস্তা আমাদের জন্য লাইফলাইন।’
আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর যে নির্বাচনী ইশতেহার আছে, সেগুলোর সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের সমন্বয় করা হবে। কিন্তু কাউনিয়া-পীরগাছা যেহেতু পিছিয়ে পড়া অঞ্চল, সে লক্ষ্যে তাঁর পরিকল্পনা কী, কীভাবে কাউনিয়া-পীরগাছাকে সাজাতে চান, সে জন্য স্থানীয়ভাবেও নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন।
ইশতেহারে আখতার হোসেন বলেন, ‘এই জনপদ কৃষকদের জনপদ। এই জনপদের একটি বড় অংশ চরাঞ্চল। অতএব কৃষি এবং চরাঞ্চলের মানুষের মানুষের জন্য আমাদের কিছু পরিকল্পনার বিষয় রয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের স্থায়ী ভাগ্য পরিবর্তনে জাতীয় পর্যায়ে একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষিকে বাঁচাতে একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়নসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা বলেন আখতার। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বন্যার সময় তিস্তা নদীতে যে ভাঙন হয়, তাতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ পানিতে বিলীন হয়ে যায়। আমরা তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। তিস্তা নদী খনন করে, নদীর গভীরতা ও নাব্যতা ঠিক করে নদীর গতিপথ দিয়েই যেন পানির প্রবাহ ঠিকভাবে চলে যায়, সে জন্য তিস্তা নদীর পাড় বাঁধাই করা, বাঁধ নির্মাণ করা এবং তিস্তাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল করা হবে। সব মিলিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার যে ধারণা, আমরা সেই ধারণা বাস্তবায়ন করতে চাই।’
আখতার উল্লেখ করেন, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। এ নদীতে উজানে ভারতের বাঁধ আছে। সেই বাঁধ হঠাৎ করে খুলে দেওয়া হয়। যার কারণে কোনো ধরনের প্রস্তুতি না থাকায় কৃষকদের নানা বিপদে পড়তে হয়। এ জন্য উজানে পানি ছেড়ে দেওয়ার আগে আগাম সতর্কবার্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আখতার হোসেন বলেন, আলু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাট খাতের উন্নয়নে পাট চাষ বাড়ানো ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউনিয়া ও পীরগাছায় নারীদের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য আলাদা সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া হরিজন সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
কাউনিয়া-পীরগাছা এলাকায় আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুলে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় দলীয় ও জোট নেতারা, স্থানীয় সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।