শহরের চৌরঙ্গীমোড় এলাকার কয়েক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে রাত আটটার দিকে শহরের এই অংশের বিদ্যুৎ চলে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, রাত সোয়া আটটার দিকে ব্যবসায়ীরা সবাই দোকানপাট বন্ধে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সৈয়দ আতর আলী সড়কের দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের একটি বহর কলেজ রোডের সমবায় মার্কেটের সামনে জড়ো হয়। মোটরসাইকেলে থাকা অনেকের হাতে রড ও হকিস্টিক দেখা গেছে। ঠিক একই সময়ে পুলিশের একটি গাড়ি ওই এলাকা অতিক্রম করে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেলের একটি বহর শহরের দিক থেকে এসে ভায়নার মোড় হয়ে ইটখোলা পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে ঘুরে আবার চলে আসে। একেকটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন আরোহী ছিলেন। তাঁদের হাতে হকিস্টিক, লোহার পাইপ, দা ছিল। কারও কারও কাঁধে ব্যাগ ছিল। ব্যাগের ভেতরে কী ছিল, জানি না। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর সদস্য।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমবায় মার্কেটের ওই এলাকায় সন্ধ্যার পর আড্ডা দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ খান, সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে বসার কথা স্বীকার করলেও অস্ত্র হাতে মহড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ ভুল তথ্য দিয়েছে। সন্ধ্যা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত আমরা সমবায় মার্কেটের সামনে ছিলাম। তবে ছাত্রলীগের কেউ অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়নি। অন্য কেউ দিয়েছে কি না, জানি না।’

সম্প্রতি মাগুরায় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগের কমিটির দুজন নেতার সঙ্গে অস্ত্র হাতে মহড়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ওই দুই নেতা বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা কয়েক দিন ধরে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ার করতে এই মহড়া দেওয়া হতে পারে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান হাসান ইমাম সুজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের আগেই জানানো হয়েছিল, ছাত্রলীগের ছেলেরা বের হবে, তারা কোনো ঝামেলা করতে পারে। এ কারণে আগে থেকে ভায়না এলাকায় ও ইসলামপুর পাড়া জেলা বিএনপির কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছিল। কর্মীদেরও সাবধান করে দিয়েছিলাম। দুটি কার্যালয়ের সামনেই ছাত্রলীগের ছেলেরা দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির কিছু কর্মসূচির কারণে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে এগুলো করা হচ্ছে বলে ধারণা করছি।’

জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর এমন কোনো ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বেলা তিনটার দিকে একটা ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেটা মোটরশ্রমিকদের সঙ্গে পারলা গ্রামের লোকজনের বিবাদ হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন