বইপড়ায় ছেলেদের চেয়ে চার গুণ বেশি পুরস্কার পেল মেয়েরা

রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা। শনিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেছবি: প্রথম আলো

পুরস্কার হিসেবে একটি বই পেয়ে জেসমিন খাতুনের উচ্ছ্বাস যেন থামছিল না। তার কাছে আগে থেকে ছিল ৫২টি বই, নতুন যোগ হলো আরেকটি। বইটি শুধু তার ভান্ডারই সমৃদ্ধ করেনি; বরং এনে দিয়েছে স্বীকৃতি। রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী ঘিরে এমন আনন্দে মেতে ওঠে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী জেসমিনের মতো আরও অনেককে দেওয়া হয় বই পুরস্কার।

মেয়েদের বই পড়ার আগ্রহ বেশি। আর নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে তাদের ভালো একাডেমিক ফলাফলের একটি সম্পর্ক দেখা যায়।
বিকাশ চক্রবর্তী, ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আজ শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসব। মিলনায়তনের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় বাইরে প্যান্ডেল করে পর্দায় দেখানো হয় অনুষ্ঠানের দৃশ্য। একাডেমির মাঠেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একই রকম ভিড় দেখা যায়। পুরস্কার নিয়ে বাইরে বের হয়েই কে কী বই পেয়েছে, তা দেখতে মেতে উঠতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ছবি তোলার সুযোগও মিস করেনি তারা।

দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৯টি স্কুলের মোট ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৯টি স্কুলের ১ হাজার ৭৬৬ শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয় এবং ১০টি স্কুলের ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীর পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাত থেকে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৩৮১ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৫৪ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৮৫ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের ৪১৩ জন ছেলে ও ১ হাজার ৭০৭ জন মেয়ে। হিসাব করে দেখা গেল পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে চার গুণের বেশি পুরস্কার পেয়েছে মেয়েরা।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মেয়েদের বই পড়ার আগ্রহ বেশি। আর নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে তাদের ভালো একাডেমিক ফলাফলের একটি সম্পর্ক দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিরা জানান, বছরব্যাপী ২০টি বইয়ের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী ১০টি বই পড়েছে, তাদের শুভেচ্ছা পুরস্কার, যারা ১৬টি বই পড়েছে, তাদের অভিনন্দন পুরস্কার এবং যারা ২০টি বই পড়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে, তাদের সেরা পাঠক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বইগুলো পড়া শেষে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের সংগঠক পরীক্ষাটি নিয়ে মূল্যায়ন খাতাগুলো ঢাকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। সেখানে খাতাগুলো মূল্যায়ন শেষে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার নিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি। শনিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে
ছবি: প্রথম আলো

উৎসবে বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) চিত্রলেখা নাজনীন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, রাজশাহী বিভাগীয় গ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, বিশেষ সাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক সংগঠক আহামেদ শফি উদ্দিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মোহা. আবদুর রশিদ, রাজশাহী গ্রামীণফোন লিমিটেডের সার্কেল টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহা, সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোরেরা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।