লিখিত অভিযোগে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উল্লেখ করেন, গত রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শেষে সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে হুমকি দিতে থাকেন। তিনি সেখান থেকে কোনোরকমে নিজের বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার পর বিকেল পাঁচটার দিকে অতর্কিত ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী বাড়িতে গিয়ে তাঁর লোকজনকে ভয়ভীতি দেখান ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় তিনি নিরাপদ স্থানে চলে যান।

যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। গত নির্বাচনেও আমার বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। ভোটে তাঁদের পরাজিত করেই চেয়ারম্যান হয়েছিলাম। আমি কখনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিইনি।
গোলাম মহীউদ্দীন, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জানান। পরে রাতে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরপর গত সোমবার রাত ১১টার দিকে তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁদের না পেয়ে তাঁদের পরিবারের লোকজনকে হুমকি ও গালাগাল করা হয়। মুঠোফোনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ ঘটনা জানার পর তিনি সাটুরিয়া থানার ওসিকে বিষয়টি জানান এবং এ ব্যাপারে সহযোগিতা চান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বজলুল হক বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীকে বিভিন্নভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি, চাপ প্রয়োগসহ প্রতিবন্ধকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাণভয়ে তিনি ও তাঁর প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী মানিকগঞ্জ ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মহীউদ্দীন বলেন, ‘আমার বা আমার লোকজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করি। গত নির্বাচনেও আমার বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। ভোটে তাঁদের পরাজিত করেই চেয়ারম্যান হয়েছিলাম। এবারও আমি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। ভোট প্রার্থনা করছি। আমি কখনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিইনি। আমার নাম বলে কেউ কিছু করলে তার দায় তাঁকে নিতে হবে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয় মূলত পুলিশ সুপার দেখবেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলা হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, এ বিষয়টি তিনি জানেন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ওই দুই প্রার্থী। সাতটি উপজেলার সাধারণ সদস্য পদে ২৩ জন এবং সংরক্ষিত তিনটি আসনে ১৪ জন নারী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১৭ অক্টোবর মানিকগঞ্জসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন