এবি পার্টির ফুয়াদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ বিএনপির

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়া (ফুয়াদ)ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়া ফুয়াদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীনের পক্ষে তাঁর প্রধান নির্বাচনী প্রতিনিধি ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান আজ সোমবার দুপুরে লিখিতভাবে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল-৩ আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সমর্থকদের মধ্য থেকে থেকে প্রকাশ্যে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাঁদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়, যা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। এ অবস্থায় বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রমাণ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্যসচিব জুয়েল রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বরং যে দল মনে করে, নির্বাচনের আগেই তারা বিজয়ী হয়ে গেছে, সেই দলের প্রার্থীর সমর্থকেরা আমাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মারধর, হামলা, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসাদুজ্জামান ভুইয়ার কয়েকটি ভিডিও বক্তব্য বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমাকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। নির্বাচনী আচরণবিধির ব্যাপারে প্রার্থী যিনিই হোন, ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’