মাগুরায় মাদক উদ্ধার অভিযানে আসামির মৃত্যু, পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে আজ রোববার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান চালায়ছবি : সংগৃহীত

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানের সময় মাদক মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিযানের সময় কাউকে মারধর করা হয়নি। ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে রেখে তাঁরা চলে আসেন। এরপরও তাঁদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙ্চুর করা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম আকুব্বর মোল্লা (৩৭)। তিনি চরপাড়া গ্রামের মাজেদ মোল্লার ছেলে। আজ সকাল ১০টার দিকে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।

আকুব্বর মোল্লার স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, ১০-১২ জন লোক হঠাৎ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের ‘ডিবির লোক’ পরিচয় দিয়ে তল্লাশি শুরু করে। তারা ঘরে কিছু না পেয়ে একপর্যায়ে আকুব্বরকে আটক করে মারধর করে।

জ্যোৎস্না খাতুন আরও বলেন, ‘সে (আকুব্বর) বারবার বলেছিল, ‘আপনারা আমারে মেরেন না, আমার কাছে কিছু নাই।’ আমি নিজেও অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা শোনেনি। ঘরে কিছু না পেয়ে তারা প্লাস্টিকের পাইপ, লাঠি দিয়ে আমার স্বামীকে বাড়য়ে (আঘাত) মেরে ফেলে দিয়ে গেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) সাহারা ইয়াসমিন জানান, পূর্বতথ্যের ভিত্তিতে ১১ সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি থেকে প্রায় আধা কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

সাহারা ইয়াসমিন বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর তাঁকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে আসার প্রস্তুতির সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবার থেকেও জানানো হয়, তিনি অসুস্থ। মানবিক কারণে আমরা হ্যান্ডকাফ খুলে দিই এবং তাঁকে রেখে বাইরে চলে আসি। আমরা বাইরে গাড়ির কাছে থাকাকালে শুনতে পাই, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করেন।’

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সাহারা ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘অভিযানের পুরো ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। কোথাও তাঁকে মারধরের ঘটনা নেই। আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর হামলায় অভিযানে থাকা তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মিঠুন ব্যাপারী নামের এক সিপাহিকে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদিয়া সাকিনা ঝরা জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই ব্যক্তিকে (আকুব্বর) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বলেন, অভিযানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পরিচালনা করেছিল। প্রাথমিক যে তথ্য পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তি এবং কিল-ঘুষি দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই চারটি মাদকের মামলা আছে।

ওসি মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল তৈরির বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।