প্রথম আলো: বিএনপি নেতা আ ফ ম কামালকে হত্যার পর রাতে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে, এ মিছিল থেকে তাদের প্রতিনিধি সম্মেলনের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়েছে। দোষীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ প্রতিহত করবে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে কী বলার আছে আপনার?

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী: কামাল হত্যার সংবাদ শুনে দলের অনেক নেতা-কর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জড়ো হই। জেলা, মহানগর ও সিলেটে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতারা মিলে একমত হই, পরের দিন, অর্থাৎ ৭ নভেম্বর সকাল ১০টায় আমরা হাসপাতালে যাব। লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হলে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করব। ওই দিন তাঁর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মসূচি দেব। এ সিদ্ধান্তের পর যথারীতি সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম গেটে এসে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিষয়টি জানিয়ে চলে যাই।

আওয়ামী লীগ যে অভিযোগ করছে, এর সঙ্গে বিএনপি বা তার অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ছাড়া ১৯ তারিখ আমাদের গণসমাবেশ প্রতিহত করা হবে, এমন সংবাদ এখনো আমাদের দৃষ্টিতে পড়েনি। তবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে যতই বাধাবিপত্তি আসুক না কেন, সিলেটবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণসমাবেশ সফল হবেই, ইনশা আল্লাহ।

প্রথম আলো: বিভাগীয় গণসমাবেশ সামনে রেখে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো প্রতিদিন গণসংযোগ, প্রস্তুতি বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। আপনাদের সার্বিক প্রস্তুতি কেমন? কী পরিমাণ মানুষ সমাবেশে উপস্থিত থাকতে পারেন?

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী: সার্বিক পরিস্থিতি খুবই ভালো। সমাবেশ সফল করতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আমরা মনে করছি, মূল সমাবেশ সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে হলেও ওই দিন পুরো শহরজুড়ে সমাবেশের বিস্তৃতি ঘটবে। আশা করছি, গণসমাবেশে চার লাখ মানুষের সমাগম হবে।

প্রথম আলো: অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের আগে যেভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, সিলেটে কি এমনটা ঘটার আশঙ্কা আছে? যদি এমন আশঙ্কা থাকে, তাহলে আপনাদের বিকল্প প্রস্তুতি কী?

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী: সিলেট একটি সম্প্রীতির নগর। পরিবহনের শ্রমিক-মালিকেরাও এ অঞ্চলের মানুষ। মানুষের কষ্ট হোক, এ ধরনের কোনো কর্মসূচি তাঁরা দেবেন না বলে আশা করি।

প্রথম আলো: গণসমাবেশ সফল করতে যেসব প্রস্তুতি বৈঠক করছেন, এতে কী কোনো বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন? পুলিশ কি কোনো বাধা দিচ্ছে কিংবা কোনো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে?

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী: মোটা দাগে এখনো তেমন চাপের সম্মুখীন হইনি। তবে উপজেলা পর্যায়ে আমাদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নমুখী চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি।