সমাবেশে প্রধান অতিথি বরকতউল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন, আইএসের গুপ্তচর ছিলেন, উনি কোনো যুদ্ধ করেননি, উনি মুক্তিযোদ্ধা নন। আমি এই সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, ১৯৭২ সালে কেন জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ঘোষণা করা হলো। ওই সময় সরকারে ছিল বঙ্গবন্ধু। আমি শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনার বাবা সেদিন ক্ষমতায় ছিলেন। একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীর অঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাহলে আপনার বাবা কেন একজন পাকিস্তানি চরকে সেনাবাহিনীর উপ–অধিনায়ক এবং বীর উত্তম খেতাব দিলেন, সেটারও বিচার করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকার ইতিহাস পাল্টানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বরকতউল্লা বলেন, ‘কাউকে হত্যা বা খুন করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেননি। জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে ক্ষমতায় এসেছিলেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান একজন সেনাবাহিনীর লোক হয়েও এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন।’

১০ দফা আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ সবকিছুর দাম বাড়ছে, মানুষের জীবন পরিচালনা কষ্টকর হয়ে গেছে। মানুষের বাঁচার অধিকারের জন্য এই ১০ দফার আন্দোলন করা হচ্ছে। এই আন্দোলন এখন সাধারণ মানুষের আন্দোলন হয়ে উঠেছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। এ দেশের মানুষ একবেলা না খেয়ে থাকতে চায়, কিন্তু তারপরও নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। আজকে একজনের আঙুলের ইশারায় চলছে সচিবালয়, প্রশাসন ও বিচারকের কার্য। আজ গ্রামের কে ইউপি সদস্য হবে, কে চেয়ারম্যান হবে এটা আওয়ামী লীগ ঠিক করে দেয়। কে এমপি হবে সেটা প্রশাসন ঠিক করে দেয়। এ জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে এমপি মন্ত্রীদের আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। আজ যদি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতো তাহলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক জিএস সুরুজ আহমেদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সহ–সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী সায়েদুল আলম বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা।