পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল ফটকপ্রথম আলো ফাইল ছবি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন এক শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল হোসেনের সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

শাস্তির আওতায় আসা শিক্ষার্থীরা হলেন মো. আসিফ জাহান, প্রিয় কুমার সাহা, তৌফিক হোসেন আলী, মনুয়িস তাজওয়ার মাহি, আশরাফুল ইসলাম, সাকিব হোসেন মজুমদার, মুমিনুল ইসলাম, উৎস বর্মণ, মো. নাহিম, মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, জোবায়ের আহমেদ লিমন, মো. রাজিব মিয়া ও রক্ষণ চন্দ্র রায়। তাঁরা বিভিন্ন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয়-২৪ হলের আবাসিক।

ওই শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, এক সেমিস্টার থেকে এক বছর পর্যন্ত হল ও ক্লাস থেকে বহিষ্কার এবং অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অপরাধে আবার জড়ালে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সতর্কতাও জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, এক নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে র‍্যাগিংয়ের পরিকল্পনা, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা দাখিল না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা হবে।
জামাল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার

১৯ আগস্ট রাতে আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী হাবিবকে বিজয়-২৪ হলের কমনরুমে নিয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন হাবিব। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাসুদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা দাখিল না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা হবে।