সড়কবাতির আলোয় সবুজ মাঠের মাঝে অন্য রকম সন্ধ্যা
পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার চোমরপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে একটি পাকা সড়ক। দুপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের খেত। কোথাও মরিচ, কোথাও পাট, কোথাও আবার ঘাসের আবাদ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুক চিরে এগিয়ে গেছে একফালি ধূসর রেখা। বিকেল থেকে সেই সড়কে নামতে শুরু করে মানুষের ঢল। সন্ধ্যা নামলে সড়কবাতির আলোয় জায়গাটি যেন হয়ে ওঠে ছোট্ট এক প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র।
দুই বছর আগে সাঁথিয়া পৌরসভার উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি। আগে সেখানে ছিল কাঁচা রাস্তা আর ফসলের মাঠ। সবুজ ফসলের মাঠ, খোলা আকাশ, সন্ধ্যার পর সড়কবাতির আলো আর গ্রামীণ আবহ মিলিয়ে চোমরপুরের এই সড়কের সৌন্দর্যের টানে এখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন সাঁথিয়া, বেড়া ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ঘুরতে আসছেন। কেউ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ফসলের খেতের দিকে তাকিয়ে আছেন। আবার কেউ বসেছেন চায়ের দোকানে। শিশুদের জন্য বসেছে নাগরদোলাসহ কয়েকটি খেলার রাইড। সড়কের দুই পাশে এখন গড়ে উঠেছে অন্তত ২৫টি ছোট-বড় খাবারের দোকান।
ফাস্ট ফুডের দোকান নিয়ে বসেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণের পর সুন্দর দৃশ্যের টানে এই এলাকায় যখন দেখলাম প্রচুর লোকজন বেড়াতে আসতেছে, তখন প্রথম দোকানটি আমিই দিই। বেশ বেচাকেনা হতি থাকল। আমার দেখাদেখি এখন অনেকেই এ জায়গায় দোকান দিছে। এখন সব মিলায়া দোকান ২৫টিরও বেশি। সবারই ভালো আয় হতেছে।’
চটপটি বিক্রি করছেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আগে এখানে সন্ধ্যার পর মানুষ থাকত না। এখন প্রতিদিন এত মানুষ আসে যে বসার জায়গা কম পইড়্যা যায়। বিকালের থ্যা রাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হয়। এতে আমাগরে সংসারও ভালো চলতেছে।’
বেড়া উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় জায়গাটার ছবি দেখে প্রথম আসি। খোলা মাঠ, সবুজ পরিবেশ আর বাতিগুলোর আলো মিলিয়ে জায়গাটা খুব সুন্দর লাগে। শহরের ভিড়ের বাইরে এমন পরিবেশে সময় কাটাতে ভালো লাগে।’
সাঁথিয়া পৌরসভা থেকে বেড়াতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার জানান, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার মতো নিরাপদ ও সুন্দর জায়গা খুব কম আছে। সন্ধ্যার পরে বাতির আলোয় পরিবেশটা আরও সুন্দর লাগে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করে।
স্থানীয় আমোষ গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘রাস্তা হওয়ার পর থেকেই এই জায়গার সৌন্দর্য মানুষের নজর কাড়ে। এখন দূর–দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। এই সড়ক এখন আমাদের এলাকার গর্ব হয়ে গেছে।’
পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে প্রায় ৭০টি সড়কবাতি। সন্ধ্যার পর এসব বাতির আলোয় পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। রাত পর্যন্ত সেখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকে।
সাঁথিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফিরোজুল আলম বলেন, ‘নগর পরিচালনা ও অবকাঠোমো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণের পর শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাতেই সুবিধা বাড়েনি, মানুষের কাছে একটুকরা স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। এখানে মানুষের সমাগম হওয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। আমরা জায়গাটির সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছি।’