উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে আগুনে পুড়ল ৩০টি রোহিঙ্গা বসতি

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে আগুন নেভাতে ব্যস্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গতকাল দিবাগত রাত তিনটায়ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে ( ক্যাম্প-১১) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩০টি রোহিঙ্গা বসতি পুড়ে গেলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আশ্রয়শিবিরের ই-৫ ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ই-৫ ব্লকের বাসিন্দা সামছুন্নাহারের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর পাশের আরও ২৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়। আগুন যেন অন্যদিকে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কয়েকটি রোহিঙ্গা বসতি ভেঙে ফেলা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৩টি ইউনিট প্রায় ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বালুখালীর এই আশ্রয়শিবিরে অন্তত ৬০ হাজার রোহিঙ্গার বসতি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন দলনেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যেত। আগুনে ৩০টির মতো রোহিঙ্গা ঘর পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন, পরিকল্পিতভাবে এই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা জড়িত। সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখাতে ও আশ্রয়শিবিরের আধিপত্য বিস্তার করতে রোহিঙ্গাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা আগুন নেভাতে গেলে সন্ত্রাসীরা মারধর করে কাজে বাধা দেয়।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মো. আমির জাফর বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিত নাকি দুর্ঘটনা, সেই রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আগুন কীভাবে ছড়াল খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এপিবিএন শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে আছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।’

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ একই আশ্রয়শিবিরে  ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছিল ২ হাজার ২০০ রোহিঙ্গা বসতি।  ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে ২০২১ সালের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালী ও পাশের তিনটি আশ্রয়শিবিরে একসঙ্গে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১১ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল। পুড়ে গিয়েছিল ১০ হাজারের হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ঘর।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩ আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। গত ছয় বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।