পটুয়াখালীতে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার শপথ, দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী এলাকায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দেশক্রমে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। এর অনুলিপি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন তাঁর নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে দশমিনা উপজেলা বিএনপিকে শপথ পড়ান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিএনপির সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আলম শানুসহ উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী। এ সময় নির্বাচনী মাঠ থেকে হাসান মামুনকে ছেড়ে না যাওয়ার শপথ করেন তাঁরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে পরে তা জমা দেন। পরে ৩০ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর, অর্থাৎ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার এক দিন আগে হাসান মামুন দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা জানান।
এদিকে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পরপরই হাসান মামুন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে গলাচিপা উপজেলা ও পৌর এবং দশমিনা উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও দৃঢ় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও উল্লেখ করেন।
কমিটি বিলুপ্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সানু বলেন, তাঁরা হাসান মামুনের সঙ্গে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদার বলেন, ‘দল ছাড়া যেমন ব্যক্তি অচল, তেমনি ব্যক্তি ছাড়া দলও অচল। আমরা হাসান মামুনের পক্ষে আছি এবং থাকব।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান (টোটন) বলেন, ‘কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার আগে জেলা বিএনপি বিষয়টি জানে না। হাসান মামুন এখন দলের কেউ নন, তাই তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। দল যাঁকে সমর্থন দেবে, জেলা বিএনপি তাঁর সঙ্গেই থাকবে—এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’