সমাবেশে রফিউর রাব্বি বলেন, আজকের বিদ্যুৎ–সংকটের জন্য সরকার বিশ্বমন্দা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে হাজির করলেও এর প্রকৃত কারণ সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতি। গত এক যুগে সরকার ধীরে ধীরে এ সংকট নিজেই তৈরি করেছে। ২০১০ সালে সরকার আইন করে দুই বছরের জন্য রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে বিশেষ গোষ্ঠীকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়া বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ করে দেয়। পরে তার সময় বাড়িয়ে পাঁচ বছর করলেও এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

দেশে গ্যাস উত্তোলনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উচ্চমূল্যে ফার্নেস তেল আমদানি করে চলেছে। গ্যাসের অভাব দেখিয়ে ভোলাসহ বিভিন্ন সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে উচ্চদামে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। সরকার বিশেষ ব্যক্তিদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশের জ্বালানি খাতকে এভাবে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়েছে। বারবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে তা জনগণের কাঁধে চাপানো হয়েছে। মানুষ যাতে এসবের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে না পারে, এ জন্য ২০১০ সালে সরকার আত্মঘাতী জ্বালানি আইন করেছে। দুই বছরের জন্য বলা হলেও সে আইন আজও অব্যাহত আছে। এখন তারা বলছে, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এ আইনের প্রয়োজন আছে।

নিখিল দাস বলেন, সরকার নিজেদের লোকদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে চলেছে।

বিমল দাস বলেন, ‘কিছুদিন আগে সরকার উৎসব করে জানান দিল দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তা হলে আজকে এ সংকট কেন?’

অন্য বক্তারা বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির দায় জনগণ নেবে না। জ্বালানি খাতকে এভাবে সংকটে ফেলার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন