চিকিৎসক দেখাতে গিয়ে ভবনের ছাদের দরজা আটকে অস্বাভাবিক আচরণ, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

নাসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। জুড়ী, মৌলভীবাজার, ২ অক্টোবর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

নাসিম উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে যান স্বজনেরা। চেম্বারে প্রবেশের আগেই তিনি পালিয়ে পাশের একটি তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে দরজা আটকে দেন। এরপর অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে ভবনের মালিকসহ স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের ডাকবাংলো সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনেরা জানান, বছর দেড়েক আগে নাসিম উদ্দিনের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। ওই সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বেরিয়ে পড়লেও তিনি ঘরের শৌচাগারে ঢুকে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

নাসিম উদ্দিন জুড়ীর সাগরনাল ইউনিয়নের পাতিলাসাঙ্গন গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিম উদ্দিন বেশ কিছু দিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। আজ বিকেল চারটার দিকে স্ত্রী ও শ্বশুর তাঁকে নিয়ে ডাকবাংলো সড়ক এলাকায় একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট এক চিকিৎসকের চেম্বারে যান। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে রোগনির্ণয় কেন্দ্রের বিপরীত পাশে অবস্থিত তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন নাসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে নামতে তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালান। এ দৃশ্য দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে জুড়ী ফায়ার সার্ভিস ও জুড়ী থানা–পুলিশ সেখানে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে ছাদের স্টিলের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী জুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান কবিরুল ইসলাম বলেন, নাসিম উদ্দিনের আচরণে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দরজা খুলে নিচে নামতে তাঁকে একাধিকবার অনুরোধ হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। পরে বাধ্য হয়ে দরজা ভাঙতে হয়।

কবিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে নাসিম উদ্দিনের বাড়িতে টিনশেডের বসতঘরে আগুন লাগে। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। তিনি ঘরে টয়লেটের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। পরে ঝুঁকি নিয়ে অক্ষত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

নাসিম উদ্দিন ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাঈদ এনাম। তিনি বলেন, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কখন, কী করতে হবে অথবা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝে উঠতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।