শিবালয়ে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলি করে একজনকে হত্যা
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার বিকেলে যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের একটি বালুমহালের একজন ইজারাদারের সঙ্গে তেওতা বালুমহালের ইজারাদার কাওছার আলম খানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে ইজারাদার কাওসারের ব্যবস্থাপক মিরাজ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মিরাজ পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
শিবালয় থানার পুলিশ ও বালুমহাল ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেওতা এলাকায় বালুমহাল রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বালুমহালের আলোকদিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীরে কাজ করছিলেন মিরাজ ও বালুমহারের শ্রমিকেরা। এ সময় স্পিডবোটে করে দুর্বৃত্তরা এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর মিরাজ ও জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজনকে কুপিয়ে স্পিডবোটে করে পালিয়ে যায় তারা।
পরে স্থানীয় লোকজন মিরাজকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুলিবিদ্ধ জাহাঙ্গীরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় তেওতা বালুমহালের ইজারাদার কাওছার আলম জানান, গত বুধবার বিকেলে মুঠোফোনে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি বিদেশি মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁকে (কাওছার) হুমকি দেন। হুমকিদাতা বলেন, বাল্কহেডে বালু বিক্রি করলে তাঁকে খুন করা হবে। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কাওছার আলম সাংবাদিকদের বলেন, যমুনা নদীর শিবালয় উপজেলার উজানে সিরাজগঞ্জের এক বালুমহালের এক ইজারাদারের লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো বলেন, খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের ১২ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। নিহত ব্যক্তির লাশ মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।