৪৮ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ৩ রিসোর্ট মালিক-পর্যটক
অপহরণের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সুন্দরবনে গিয়ে অপহরণের শিকার একটি রিসোর্টের মালিক (পরিচালক) ও দুই পর্যটককে উদ্ধার করা যায়নি। বনদস্যু বাহিনীর পরিচয়ে অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে একটি ডিঙিনৌকা নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে ঘুরতে গিয়ে ওই তিনজন বনদস্যুদের কবলে পড়েন। রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (আরওএএস) এক নেতা জানান, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের ঘাগরামারী টহল ফাঁড়িসংলগ্ন কেনুয়ার খালে ওই ঘটনা ঘটে।
অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে শুক্রবার থেকে অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। তবে আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডর আবরার হাসান আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযান এখনো চলমান। বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস মুঠোফেনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অপহরণের খবর শুনেছি। তবে তাঁদের কেউ বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে বনে ঢোকেননি।’
খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী নদী সুন্দরবন ও লোকালয়কে আলাদা করেছে। ঢাংমারী নদীর দক্ষিণে সুন্দরবন আর পূর্ব পাড়ে বসতি। সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ কিছু ইকোরিসোর্ট গড়ে উঠেছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাংমারী এলাকায় গোলকানন নামের একটি রিসোর্টে ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পাঁচ পর্যটকসহ মোট সাতজন শুক্রবার ডিঙিনৌকা করে সুন্দরবনে ঢোকেন। ঢাংমারী নদীটি ডলফিনের (শুশুক ও ইরাবতী) অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষিত। এই নদী হয়ে শাখা কেনুয়ার খালে ঢোকার পরই ‘মাসুম বাহিনী’ নামের একটি বনদস্যু দলের হাতে জিম্মি হন তাঁরা। অপহরণকারীরা ওই নৌকা থেকে গোলকানন রিসোর্টের পরিচালক শ্রীপতি বাছাড় এবং ঢাকা থেকে আসা দুই পর্যটক মো. সোহেল ও জনিকে ধরে নিয়ে যায়।
সুন্দরবন-সংলগ্ন ওই এলাকার রিসোর্টের পক্ষ থেকে তাদের অতিথিদের জন্য ছোট ডিঙিনৌকায় করে সুন্দরবনে ছোট খালে ক্যানেল ক্রুজিংয়ের ব্যবস্থা করে থাকে।
রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন আরওএএসের এক নেতা জানান, গোলকানন নামের রিসোর্টটি এনজিও ফান্ডে তৈরি, যা কমিউনিটি ট্যুরিজম বিকাশের জন্য স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রিসোর্টটি তাঁদের সংগঠনের সদস্য নয়। এ ঘটনায় গোলকানন রিসোর্টের পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।