গাইবান্ধায় নিরাময় কেন্দ্রে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নির্যাতন মামলায় ৫ আসামির জামিন নামঞ্জুর

মুর্শিদ হক্কানীকে নির্যাতনের চিহ্নছবি: প্রথম আলো

গাইবান্ধার জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে নির্যাতনের মামলায় পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান এই আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) এবং তালহা (৩৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক আজিজুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিরুল ইসলাম বলেন, আদালত উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন, শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্যাতন ও মারধরের শিকার মুর্শিদ হক্কানী (৩৭) একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। গত বছরের ২৮ আগস্ট মুর্শিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে গাইবান্ধা শহরের ভি-এইড রোডে অবস্থিত গাইবান্ধার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউক) পরিচালিত ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাসেবা চলাকালে কেন্দ্রের দায়িত্বরতরা পরিবারের লোকজনকে তার খোঁজখবর নিতে দেয় না। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে রোগীর সঙ্গে কথা বলা ও সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি বেলা প্রায় ২টার সময় আত্মীয়স্বজনেরা মুর্শিদ হক্কানীকে দেখার জন্য কেন্দ্রে গেলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিভিন্ন অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এবং তাদের কথাবার্তা, আচরণ ও কার্যকলাপে সন্দেহ হয়। তাকে দেখার জন্য পুনরায় অনুরোধ করলে ওই দিন বেলা প্রায় ৩টার দিকে মুর্শিদ হক্কানীকে দেখার সুযোগ দেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করাবেন না বলে জানান। এ সময় মুর্শিদ হক্কানীর নাকের ওপরে এবং শরীরের বাহ্যিক দৃশ্যমান স্থানে একাধিক স্থানে কাটা, ফুলা এবং আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

আরও পড়ুন

পরে মুর্শিদকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে মুর্শিদ হক্কানী কেন্দ্রের ভেতরে থাকার সময় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং মারধরের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাধন, লাবিব, শিহাব, আতিফ এবং তালহা তাঁকে একটি আধা পাকা ঘরের ভেতরে নিয়ে মুখের ভেতরে কাপড় দিয়ে লোহার রড দিয়ে ডান ও বাঁ হাত, পিঠ, দুই উরু, দুই পায়ের হাঁটু, নাকের ওপর, বাঁ হাতের তালুতে মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা তার দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মারধরের পর এ কথাগুলো পরিবারকে না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে অসুস্থ অবস্থায় মুর্শিদ হক্কানীকে ১১ ফেব্রুয়ারি বিকালে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার যুবকের বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বাদী হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সাত দিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রেকর্ড করা হয়।