সাজেক যাওয়ার পথে বিরতি, ঈদে পর্যটকের ঢল খাগড়াছড়িতেও

খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড়। গতকাল বিকেলে তোলাপ্রথম আলো

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ মেঘছোঁয়া সাজেক ভ্যালিতে সড়কপথে খাগড়াছড়ি হয়ে যেতে হয়। সাজেক যাত্রায় নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকায় পর্যটকদের একটা রাত থাকতেও হয় এখানে। এ সময়টা কাজে লাগাতে এখানকার পাহাড়, নদী ও ঝরনাঘেরা পর্যটন রিসোর্টগুলোতে ঢুঁ মারেন পর্যটকেরা। গত কয়েক বছরে সাজেকগামী পর্যটকদের ঘিরে খাগড়াছড়িতে নতুন নতুন রিসোর্ট, রেস্তোঁরা গড়ে উঠেছে। আর পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় এখন খাগড়াছড়ির নানা স্থানও যুক্ত হচ্ছে। এবারের ঈদেও জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঢল নেমেছিল পর্যটকদের।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দুদিন খাগড়াছড়ির কোনো হোটেল–মোটেল খালি ছিল না। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, হর্টিকালচার পার্ক, দেবতা পুকুর, মায়াবিনী লেক, পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরসহ সব পর্যটনকেন্দ্র ছিল লোকে লোকারণ্য। পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এসব স্পটও নতুনভাবে সাজানো হয়। পাহাড়ি ঐতিহ্যে সাজানো রেস্তোরাঁগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া পিকআপ, জিপসহ অন্য পর্যটকবাহী যানবাহনে ছিল শতভাগ বুকিং। আজ মঙ্গলবার এবং আগামীকাল বুধবার পর্যটকদের চাপ কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বিভিন্ন হোটেল–মোটেলে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

খাগড়াছড়ির যানবাহন মালিক সমিতির (চাঁদের গাড়ি) লাইনম্যান সৈকত চাকমা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আমাদের সমিতির সব গাড়ির বুকিং ছিল। আজ ও আগামীকাল শতভাগ বুকিং হয়নি। তবে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং আছে। গত দুই দিন অনেক পর্যটক গাড়ি না পেয়ে বিকল্প প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সাজেকসহ বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন।’

গত দুদিন খাগড়াছড়ির গাইরিং হোটেলের সব কক্ষে বুকিং ছিল বলে জানান হোটেলের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, হোটেলের সব কক্ষ বুকিং ছিল। কক্ষ খালি না থাকায় অনেক পর্যটককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের বন্ধেও ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।

গত রোববার ও গতকাল সোমবার জেলার হর্টিকালচার পার্ক ও আলুটিলায় পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। সোমবার সেখানে কথা হয় ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আজিম উল হাসান বলেন, ‘স্থানীয় কয়েকজন বন্ধু আছে খাগড়াছড়িতে। প্রায় সময় তাদের কাছে আলুটিলা পাহাড়ের ছবি, ভিডিও দেখি। ছবি দেখে প্রায় ভাবি আসব। শেষ পর্যন্ত এ বছর আসতে পেরেছি। পাহাড় থেকে শহর দেখা সত্যিই অসাধারণ।’

ঈদের পরদিন থেকেই খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা বলেন, ঈদের পর দিন থেকে প্রতিদিন পর্যটক বাড়ছে। গতকালও পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক এসেছেন। খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের টিকিট চেকার মো. ইউসুফ বলেন, ‘ঈদের দিন পার্কে দুই হাজারের বেশি পর্যটক এসেছেন। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন এসেছেন তিন হাজারের বেশি। যেহেতু সামনে আরও ছুটি আছে, আশা করি প্রতিদিন দর্শনার্থী বাড়বে।’

পর্যটক আসায় খুশি রেস্তোরাঁর মালিকেরাও। খাগড়াছড়ির অন্যতম জনপ্রিয় সিস্টেম রেস্তোরাঁর কর্মচারী আচিং মারমা বলেন, তাঁদের রেস্তোরাঁয় ঈদের পর থেকেই লোকজন বাড়ছে। বসার জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। আগামী শনিবার পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে। অনেকে আগাম খাবারের বুকিং দিয়ে রেখেছেন বলে তিনি জানান।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়িয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। ট্যুরিস্ট পুলিশের উপরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, ঈদ উপলক্ষে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় ২৪ ঘণ্টা টহলে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্গম এলাকায় গিয়ে পর্যটকেরা বিপদে পড়লেও উদ্ধারে প্রস্তুত আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সে ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করে সাহায্য চাইতে হবে।