লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের পর খোঁজ মিলছে না তরুণের, মানব পাচার মামলায় শ্বশুর ও পুত্রবধূ গ্রেপ্তার
মাদারীপুরে মানব পাচার মামলায় পুত্রবধূ ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল সোমবার রাতে শিবচর উপজেলার পশ্চিম কাকৈর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তানিয়া বেগম ও সালাম মোল্লা। র্যাব জানায়, তানিয়া বেগম মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য সোবাহান মোল্লার স্ত্রী ও সালাম মোল্লা তাঁর শ্বশুর।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল মাতুব্বরের ছেলে লিমন মাতুব্বরকে (২২) ১৮ লাখ টাকায় সরাসরি ইতালি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সোবাহান মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা। পুরো টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেন লিমন। তবে তাঁকে প্রথমে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের নামে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ১২ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। এর পর থেকে লিমনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় ৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীর খালা মুন্নি আক্তার বাদী হয়ে সোবাহান মোল্লা, তাঁর বাবা সালাম মোল্লা, স্ত্রী তানিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করেন।
পরে র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তানিয়া বেগম ও সালাম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁদের সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসা. সাবরিনা তাবাসসুম দুপুরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।