মুন্সিগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, শহিদুল হত্যার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বিএনপির ১০ জন নেতা-কর্মী কারাগারে ছিলেন। আজ তাঁদের সবার সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ বাদী হয়ে করা এই মামলায় ৩১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে। মামলাটি আগে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হলেও পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা হয়। মামলা দুটিতে ১ হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দলীয় নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে মুন্সিগঞ্জ শহরের পাশে মুক্তারপুরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা বিএনপি। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় গুলিতে যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম ওরফে শাওন ও বিএনপির সমর্থক জাহাঙ্গীর মাতবর (৩৮) গুরুতর আহত হন। পরের দিন রাতে শহিদুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই রাতেই মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা হয়। মামলা দুটিতে ১ হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়। একটি মামলার বাদী মুন্সিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনউদ্দিন। সরকারি অস্ত্র-গুলি লুট ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগে করা এই মামলায় আসামির তালিকায় ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে। মামলাটির প্রধান আসামি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতন। পুলিশের করা মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ৯ নভেম্বর দুপুরে কামরুজ্জামান রতনসহ ১০ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।