ঘরে ঝুলছিল ২ শিশুসন্তানের মরদেহ, বাড়ির পাশে পড়ে ছিল বাবার লাশ

মরদেহ উদ্ধারপ্রতীকী ছবি

যশোরের শার্শা উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে বাবা ও দুই ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চটকাপোতা গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ করা হয়।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক হতাশা থেকে দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর গ্যাস ট্যাবলেট (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড) খেয়ে বাবা আত্মহত্যা করেছেন।

মরদেহ উদ্ধার হওয়া বাবার নাম কামাল হোসেন (৪৫)। পেশায় ভ্যানচালক কামাল শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। বাড়ির পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে ছিল। এ সময় ঘরের সিলিং ফ্যান ও আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দুই শিশুসন্তান ছাবির (৪) ও জাবিরের (২) মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামাল হোসেনের দুই স্ত্রী আছে। দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগমের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে এক সপ্তাহ আগে নিজের দুই শিশুসন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান রাবেয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন জানান, আজ বিকেলে কামাল হোসেনের দোচালা টিনের ঘরের একটি কক্ষে কাঠের আড়ার সঙ্গে বড় ছেলে ছাবিরের ও সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ছোট ছেলে জাবিরের ‘ঝুলন্ত’ মরদেহ দেখা যায়। একই সময় বাড়ির দক্ষিণ পাশে কামাল হোসেনের মরদেহ পড়ে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিবাদের জেরে চরম মানসিক হতাশা থেকে সন্তানদের হত্যার পর কামাল হোসেন বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।