সিরাজগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তরুণকে গলা কেটে হত্যা, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক তরুণকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চিনাধুকুরিয়া গ্রামে ধানখেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সোহেল রানা (২৪) উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের আজাদ মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা রুবি খাতুন বাদী হয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে সোহেল রানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল আসে। এ সময় সোহেল বাড়ি থেকে বের হতে চান। তবে মা রুবি খাতুন তাঁকে রাতে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেন। কিছু সময় পর কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঈদ বোনাস দেবেন, এমন কথা বলে চার-পাঁচজন যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর আর সারা রাত বাড়িতে ফেরেননি মাসুদ রানা। মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পাননি।
পরে ঈদের দিন শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন চিনাধুকুরিয়া গ্রামের মাঝে হাসান সড়কের পাশের ধানখেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। লোকজন তখন মাসুদ রানার পরিবারকে খবর দেন। রুবি খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর ছেলে মাসুদ রানার লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা–পুলিশ দুপুরের পর লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রুবি খাতুন অভিযোগ করেন, কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা বলে তাঁর ছেলেকে লোকজন দিয়ে ডেকে নিয়ে গেছেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করে লাশ ওই স্থানে ফেলে দিয়েছেন। এই হত্যার সঙ্গে সাইফুল ছাড়াও যাঁরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেছেন, তাঁরাও জড়িত আছেন। খুনিদের গ্রেপ্তার করে তাঁদের বিচারের দাবি করেন তিনি।
এদিকে কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টাসহ খুদে বার্তা দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছোট ভাই আসাদুজ্জামান দাবি করেন বলেন, তাঁর ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। শক্রতা করে তাঁর ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের শরীরে গলার বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বাসনালি কাটা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলমান।