ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে সূর্যোদয়ের পর থেকে দিনভর স্পষ্ট দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকাল ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী সড়কের দাসপাড়া এলাকার উত্তর-পশ্চিমের নীল আকাশে ভেসে উঠে ঝকঝকে সাদা রঙের কাঞ্চনজঙ্ঘা। সেই পথ ধরে বালিয়াডাঙ্গী যেতে যেতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ।

বালিয়াডাঙ্গী-হরিণমারী সড়কে একটি ইটভাটায় তখন মাটি কেটে স্তূপের কাজ চলছে। সেই মাটির স্তূপের চূড়ায় দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ উপভোগ করছিল কয়েকটি শিশু। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়ে তাদের আর আনন্দ ধরে না!

বালিয়াডাঙ্গীর একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক খসিউর রহমান বলেন, প্রতিবছর এই সময় এখান থেকে কমবেশি সাদা বরফে আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। কিন্তু এই বছরের মতো এত দীর্ঘ সময় ধরে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভেলাজানে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকার বাসিন্দা সুরাইয়া জেসমিন। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এখানে এসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়ে মুগ্ধ হয়েছি। মনে হয়েছে একটু এগিয়ে গেলেই পর্বতশৃঙ্গটি ছোঁয়া যাবে। এই অনুভূতি সহজে ভুলবার নয়।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর প্রধান কার্যালয়ের ছাদ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা একটি দর্শনীয় স্থান। আমরা নিজের জায়গা থেকে সেই কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, এটা ভিন্ন একটা অনুভূতি। খুব কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু এখান থেকে ভোরবেলা কাঞ্চনজঙ্ঘার যে সৌন্দর্যের দেখা মেলে, তা কাছ থেকে দেখাকেও হার মানায়।’ কাঞ্চনজঙ্ঘার মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিতে তাদের কার্যালয়ের ছাদে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের কথা ভাবছেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি সেখানে থাকবে টেলিস্কোপও, যাতে দর্শনার্থীরা সহজে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।