ভোটের চেয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বেশি আস্থা জামায়াত জোটের: জোনায়েদ সাকি
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটের সমালোচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এসে অনেক পুরোনো প্রথা, পদ্ধতি, কৌশল তারা অবলম্বন করছে। জনগণের ভোটের চেয়ে এ ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের আস্থা বেশি।’
বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুরের পৌর এলাকার আমেনা প্লাজায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জোনায়েদ সাকি। জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সারা দেশে নানাভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের হাতে যে কালি দেওয়া হয় সেই কালি মোছার মেডিসিন আনা হয়েছে, যাতে একই ব্যক্তি আবার ভোট দিতে পারেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে, পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সেটাকে নানাভাবে প্রচার করে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটের যে আগ্রহ, উৎসাহ, অংশগ্রহণ সেটাকে বাধাগ্রস্ত করার কাজ তারা করছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আগেও আহ্বান জানিয়েছে, এখনো আহ্বান জানাই—ভোট ব্যবস্থা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই জনগণের পথের ওপর ভরসা করতে হবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিয়ের তৎপরতা জনগণ মেনে নেবে না।’
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে মন্তব্য করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করলাম, দুদিন ধরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটানোর একটা পরিকল্পনার চেষ্টা চলছে। আমরা কয়েকজন জামায়াত নেতা ও প্রার্থীকে দেখলাম, উল্টো তাঁরা বলছেন, ভোট ডাকাতি ঠেকানোর জন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে হাজির হতে। স্পষ্টভাবে এটা মানুষের ভোটের অধিকার এবং ভোটারদের উৎসাহ থামানোর জন্য, একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য তাঁরা এই আহ্বান জানিয়েছেন। এটা একটা আশঙ্কার জায়গা তৈরি করেছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
মাথাল মার্কার এই প্রার্থী বলেন, ‘আমরা একটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছি। একটা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা আমরা চেয়েছি। আমরা চাই ভোটের প্রতি, ভোট ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসুক। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাক। আমরা লক্ষ করছি, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এসে অনেক পুরোনো প্রথা, পদ্ধতি, কৌশল তারা (জামায়াত জোট) অবলম্বন করছে। জনগণের ভোটের চেয়ে এ ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের আস্থা বেশি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক, জেলা বিএনপির সহ–আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মহসিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলার সদস্য সালেহ মুসা প্রমুখ।