শ্বশুরবাড়িতে বিকেলে যান তরুণ, গভীর রাতে হাসপাতাল এলাকায় মিলল লাশ
রিপন প্রধান (২৮) গতকাল শনিবার বেলা তিনটার দিকে শ্বশুরবাড়িতে যান। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পান স্বজনেরা। রাত নয়টায় শ্বশুরবাড়ির এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ির স্বজনেরা জানতে পারেন, রিপন অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আছেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের লোকজন দেখতে পান, ওই হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে রিপনের লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনদের দাবি, রিপন প্রধানকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে লাশ ওই হাসপাতাল এলাকায় ফেলে চলে যান। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় এবং দাম্পত্য কলহের জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, ওই যুবকের মৃত্যু রহস্যজনক। এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার পরির্দশক (তদন্ত) অখিল সরকার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
রিপন প্রধানের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লবাইরকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের এনামত উল্লাহ প্রধানের ছেলে তিনি। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রিপন মেজ। রিপনের শ্বশুরবাড়ি জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকায়। সেখানকার হান্নান ঢালীর মেয়ে খাদিজা আক্তারকে চার বছর আগে বিয়ে করেন রিপন। রিপন ও খাদিজা দম্পতির আড়াই বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। রিপন ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ব্যবসা করতেন। স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সেখানেই।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিপন প্রধানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী খাদিজা আক্তারের বিবাদ লেগেই থাকত। স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে আছেন সন্দেহে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে বিবাদ লেগেই থাকত রিপনের। কয়েক দিন আগে এ নিয়ে তর্কাতর্কির জের ধরে স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাকও দেন রিপন। পরে তাঁর স্ত্রী চলে আসেন বাবার বাড়িতে, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে রিপন নাগদা এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। যাওয়ার পর পরকীয়া ও নানা বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তীব্র ঝগড়া হয় তাঁর। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পান স্বজনেরা। রাত ৯টায় শ্বশুরবাড়ির এক লোকের ফোন পেয়ে রিপনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানতে পারেন, তাঁর ভাই অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আছেন। পরে জাহাঙ্গীর অন্যান্য স্বজনদের নিয়ে ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, সেখানকার সিঁড়ির নিচে তাঁর ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশ সেখান থেকে রিপনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রিপন প্রধানের ভাই জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাইকে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে লাশ ওই হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে রেখে পালিয়ে গেছেন। বাড়ি থেকেও পালিয়ে গেছেন তাঁরা। স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় রিপনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান জাহাঙ্গীর।
অভিযোগের বিষয়ে রিপনের স্ত্রী খাদিজা আক্তারের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল রাত থেকে খাদিজা ও তাঁর পরিবারের লোকজন পলাতক।