নেত্রকোনায় ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। মামলাটি গত ২ মে করা হলেও অভিযুক্ত ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে মেয়েটির পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

অভিযুক্ত আসামির নাম মোহন তালুকদার (২৫)। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। মোহন তালুকদারের দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার, পুলিশ ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। তার মা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান।

আরও পড়ুন

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে। মেয়েটি বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পর দিন পৌর শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

শিশুটির মা জানান, আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে। এদিনই আইনি পদক্ষেপ নিতে মোহনগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দিনমজুরের কাম করে। আমি মানুষের বাসায় কাম করে সংসার চালাই। আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বোঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হইছে। মামলা করছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়ে না। আমার মেয়ের যে সর্বনাশ করছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে আজ বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, এজাহারে উল্লেখিত আসামিকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাদী পক্ষ থানায় আসেনি, তারা আদালতে মামলা করেছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে জানিয়েছে, তারা না বুঝতে পেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। অথচ প্রথমে পুলিশের কাছে এলে সহজেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।