নাটোর র‍্যাব ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ১৭ মে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা সদরের সমজান আলীর ছেলে শাহাদত আলী (৩২) খুন হন। এ ঘটনায় ওইদিন নিহত ব্যক্তির ভাই সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর একমাত্র আসামি শাহজাহান আলী গা ঢাকা দেন।

এদিকে মামলার বিচার শেষে ১৯৯৫ সালের ২৯ মে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত শাহজাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৩০ বছর) ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। কিন্তু আত্মগোপনে থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁকে এত দিন গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আজ বেলা ১১টায় নাটোর র‍্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান আলীকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয়। শাহজাহান বলেন, ২৪ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে তিনি ফিরোজা বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাঁর বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে শাহাদত আলীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ঘটনার দিন কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি শাহাদত আলীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে তিনি সোহরাব হোসেন ওরফে স্বপন নামে পরিচয় দিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব কাটাবাড়ি গ্রামে বসবাস শুরু করেন। এই নামেই তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র করেন। তবে সেখানে তিনি নিজেকে রংপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

সর্বশেষ ১০ বছর তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং ভাড়া বাসায় থাকতেন। তবে গোপনে তিনি নলডাঙ্গা ও ফুলবাড়ীর লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। গত ৩০ বছরের পালিয়ে বেড়ানোর জীবনটা তাঁর মোটেই ভালো কাটেনি বলে জানান তিনি।

নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) ফরহাদ হোসেন বলেন, শাহাদত আলী যখন খুন হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। সে সময় শাহাদতের পাঁচ বছরের মেয়ে শারমিন সুলতানা, তিন বছরের ছেলে আবদুর রউফ ও সাত মাস বয়সের ছেলে বাবলা হাসান ছিল। সন্তানেরা ছোট থাকায় তাঁরা বাবার হত্যার বিষয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে তাঁরা বড় হওয়ার পর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বাবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের তাগাদা দিতে থাকেন। পরে নলডাঙ্গার স্থানীয় লোকজন ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহজাহানের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার শাহজাহান আলীকে আজ বিকেলে আদালতে হাজির করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন